ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১১তম গ্রেড না পেলে ১৫ নভেম্বরের পর কর্মবিরতি ও আমরণ অনশনের হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের প্রবেশ পদে ১১তম গ্রেড প্রদান, উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করার মতো প্রধান দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তাদের দাবি পূরণের জন্য কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না দেখা গেলে সারা দেশে কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

শনিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এই সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল আমীন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের সভাপতি আনিসুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার সহকারী শিক্ষক শিক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই শিক্ষকদের মর্যাদা এবং আর্থিক নিরাপত্তা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। বর্তমানে একজন সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে যোগদান করে সর্বমোট মাত্র ১৭ হাজার ৬৫০ টাকা বেতন পান, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাজারমূল্যের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংবাদ সম্মেলনে তাদের অন্যতম প্রধান দাবি তুলে ধরে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক এন্ট্রি পদে ১১তম গ্রেড প্রদান করা হলে ১২ হাজার ৫০০ টাকা স্কেলে সর্বসাকুল্যে বেতন হবে ১৯ হাজার ৮২৫ টাকা। শিক্ষকরা দাবি করেন যে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই তারা এই সামান্য দাবিটি করছেন, যেখানে সরকারকে প্রতি শিক্ষকের জন্য অতিরিক্ত মাত্র ২ হাজার ২৬৫ টাকা প্রদান করতে হবে।

বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য সরকারি দপ্তরে কর্মরত চাকরিজীবীরা ১০ থেকে ১১তম গ্রেডে যোগদান করেন। অথচ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা বছরের পর বছর ধরে ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন, যা ‘অমানবিক ও বৈষম্যমূলক’। পাশাপাশি, ২০০৯ সাল থেকে পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত থাকায় অধিকাংশ শিক্ষককেই জীবনভর সহকারী শিক্ষক হিসেবেই অবসর নিতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষকদের ১১টি সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলো হলো:

১. সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে ১১তম গ্রেড প্রদান করা। ২. ১০ বছর ও ১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড প্রদানের জটিলতা দ্রুত নিরসন করা। ৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পদোন্নতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশব্যাপী ধাপে ধাপে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ হলো:

১. ২৩-২৪ নভেম্বর: অর্ধদিবস কর্মবিরতি। ২. ২৫-২৬ নভেম্বর: পূর্ণদিবস কর্মবিরতি। ৩. ২৭ নভেম্বর: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি।

এছাড়াও, দাবি মেনে নেওয়া না হলে শিক্ষকরা বৃত্তিসহ সব পরীক্ষা বর্জন করবেন এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশনের মতো চূড়ান্ত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূসের বিদায় ও নতুন সরকারের আগমনে ভারতের স্বস্তি এবং প্রত্যাশার দোলাচল

১১তম গ্রেড না পেলে ১৫ নভেম্বরের পর কর্মবিরতি ও আমরণ অনশনের হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের

আপডেট সময় : ০১:১৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের প্রবেশ পদে ১১তম গ্রেড প্রদান, উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করার মতো প্রধান দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তাদের দাবি পূরণের জন্য কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না দেখা গেলে সারা দেশে কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

শনিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এই সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল আমীন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের সভাপতি আনিসুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার সহকারী শিক্ষক শিক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই শিক্ষকদের মর্যাদা এবং আর্থিক নিরাপত্তা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। বর্তমানে একজন সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে যোগদান করে সর্বমোট মাত্র ১৭ হাজার ৬৫০ টাকা বেতন পান, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাজারমূল্যের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংবাদ সম্মেলনে তাদের অন্যতম প্রধান দাবি তুলে ধরে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক এন্ট্রি পদে ১১তম গ্রেড প্রদান করা হলে ১২ হাজার ৫০০ টাকা স্কেলে সর্বসাকুল্যে বেতন হবে ১৯ হাজার ৮২৫ টাকা। শিক্ষকরা দাবি করেন যে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই তারা এই সামান্য দাবিটি করছেন, যেখানে সরকারকে প্রতি শিক্ষকের জন্য অতিরিক্ত মাত্র ২ হাজার ২৬৫ টাকা প্রদান করতে হবে।

বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য সরকারি দপ্তরে কর্মরত চাকরিজীবীরা ১০ থেকে ১১তম গ্রেডে যোগদান করেন। অথচ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা বছরের পর বছর ধরে ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন, যা ‘অমানবিক ও বৈষম্যমূলক’। পাশাপাশি, ২০০৯ সাল থেকে পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত থাকায় অধিকাংশ শিক্ষককেই জীবনভর সহকারী শিক্ষক হিসেবেই অবসর নিতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষকদের ১১টি সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলো হলো:

১. সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে ১১তম গ্রেড প্রদান করা। ২. ১০ বছর ও ১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড প্রদানের জটিলতা দ্রুত নিরসন করা। ৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পদোন্নতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশব্যাপী ধাপে ধাপে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ হলো:

১. ২৩-২৪ নভেম্বর: অর্ধদিবস কর্মবিরতি। ২. ২৫-২৬ নভেম্বর: পূর্ণদিবস কর্মবিরতি। ৩. ২৭ নভেম্বর: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি।

এছাড়াও, দাবি মেনে নেওয়া না হলে শিক্ষকরা বৃত্তিসহ সব পরীক্ষা বর্জন করবেন এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশনের মতো চূড়ান্ত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা।