ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফুটবলে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নয়: ইসরায়েল ইস্যুতে ফিফা সভাপতির বিতর্কিত প্রস্তাব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ফিলিস্তিনের উপর ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনের প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দেশটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ফিফার সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেখানে রাজনৈতিক কারণে কোনো দেশকে ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ না করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। তার এই প্রস্তাব বিশ্ব ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বহুদিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে দেশটির ফুটবল দল ও ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ করার আলোচনা চলছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ বিশ্বকাপসহ বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্ট থেকে ইসরায়েলকে বহিষ্কারের জন্য জোর দাবি তুলেছে। এমনকি ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা) গত সেপ্টেম্বরে তাদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভোটাভুটির প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির শান্তি প্রস্তাব ঘোষণার পর সেই আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীকালে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) উয়েফার সব প্রতিযোগিতা থেকে ইসরায়েলকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের প্রস্তাব উত্থাপনে জোরালো সমর্থন দিয়েছে।

ঠিক এমন এক সময়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিপক্ষে তার সুস্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, রাশিয়ার মতো একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হলে তা হবে ‘একটি পরাজয়’। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে রাশিয়া এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ থাকলেও, ইনফান্তিনো মনে করেন, রাশিয়ার ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত। স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের এটি করতেই হবে। কারণ এই নিষেধাজ্ঞা কোনো কিছু অর্জন করতে পারেনি, বরং আরও হতাশা ও ঘৃণা সৃষ্টি করেছে। রাশিয়ার ছেলে-মেয়েরা যদি ইউরোপের অন্যান্য অংশে ফুটবল খেলতে পারে, তাহলে সেটি সহায়ক হবে।”

রাশিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ না করার পক্ষে তার যুক্তি তুলে ধরেন। ফিফা সভাপতি জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাজনৈতিক নেতাদের কার্যকলাপের কারণে কোনো দেশকে ফুটবল খেলতে কখনোই নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। তিনি ফিফার নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে বলেন, “আমাদের সংবিধানে এমন বিধান যুক্ত করা উচিত, যাতে রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো দেশকে কখনোই ফুটবল খেলতে নিষিদ্ধ করা না হয়। কারও না কারও তো সম্পর্কের সেতু খোলা রাখতে হবে।” তার এই মন্তব্য ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচানোর একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকাকে ‘ক্লিন সিটি’ করার ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের: চাঁদাবাজি ও মশার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

ফুটবলে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নয়: ইসরায়েল ইস্যুতে ফিফা সভাপতির বিতর্কিত প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৫:৫২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফিলিস্তিনের উপর ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনের প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দেশটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ফিফার সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেখানে রাজনৈতিক কারণে কোনো দেশকে ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ না করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। তার এই প্রস্তাব বিশ্ব ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বহুদিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে দেশটির ফুটবল দল ও ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ করার আলোচনা চলছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ বিশ্বকাপসহ বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্ট থেকে ইসরায়েলকে বহিষ্কারের জন্য জোর দাবি তুলেছে। এমনকি ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা) গত সেপ্টেম্বরে তাদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভোটাভুটির প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির শান্তি প্রস্তাব ঘোষণার পর সেই আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীকালে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) উয়েফার সব প্রতিযোগিতা থেকে ইসরায়েলকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের প্রস্তাব উত্থাপনে জোরালো সমর্থন দিয়েছে।

ঠিক এমন এক সময়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিপক্ষে তার সুস্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, রাশিয়ার মতো একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হলে তা হবে ‘একটি পরাজয়’। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে রাশিয়া এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ থাকলেও, ইনফান্তিনো মনে করেন, রাশিয়ার ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত। স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের এটি করতেই হবে। কারণ এই নিষেধাজ্ঞা কোনো কিছু অর্জন করতে পারেনি, বরং আরও হতাশা ও ঘৃণা সৃষ্টি করেছে। রাশিয়ার ছেলে-মেয়েরা যদি ইউরোপের অন্যান্য অংশে ফুটবল খেলতে পারে, তাহলে সেটি সহায়ক হবে।”

রাশিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ না করার পক্ষে তার যুক্তি তুলে ধরেন। ফিফা সভাপতি জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাজনৈতিক নেতাদের কার্যকলাপের কারণে কোনো দেশকে ফুটবল খেলতে কখনোই নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। তিনি ফিফার নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে বলেন, “আমাদের সংবিধানে এমন বিধান যুক্ত করা উচিত, যাতে রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো দেশকে কখনোই ফুটবল খেলতে নিষিদ্ধ করা না হয়। কারও না কারও তো সম্পর্কের সেতু খোলা রাখতে হবে।” তার এই মন্তব্য ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচানোর একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।