স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার উদীয়মান তারকা লামিনে ইয়ামাল তার ক্যারিয়ারের বাকিটা সময় এই ক্লাবেই কাটাতে চান বলে জানিয়েছেন। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। সম্প্রতি স্প্যানিশ ক্রীড়া মাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা গ্রহণকালে ইয়ামাল এই প্রতিশ্রুতি দেন।
“আমি আশা করি, এই ক্লাবেই আমার ফুটবল জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকতে পারব। এখানে প্রতিটি দিন আমি উপভোগ করছি। নিঃসন্দেহে এটি বিশ্বের সেরা ক্লাব এবং সেরা শহর,” বলেন তরুণ এই ফুটবলার। এর আগেও তিনি একই ধরনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, “আমি বার্সেলোনায় চিরকাল থাকতে চাই। আমি এখানে একজন কিংবদন্তি হতে চাই।”
বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমি থেকে উঠে আসা লামিনে ইয়ামাল মাত্র ১৫ বছর বয়সে ক্লাবটির সিনিয়র দলে অভিষেক করেন। ১৮ বছর বয়সেই তিনি ক্লাবটির হয়ে ১০০টি ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এবং ৩৮টি গোল করেছেন। জাতীয় দলের হয়েও তিনি ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন। তার অর্জনের তালিকায় রয়েছে লা লিগা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা।
মুন্দো দেপোর্তিভোর অনুষ্ঠানে লামিনে ইয়ামালকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করানো হয়। এমনকি, ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও তাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে তিনি একাধিকবার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিততে পারেন। এতকিছুর পরও, ইয়ামাল নিজের অর্জন নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তিনি বিশ্বাস করেন, তার সেরা সময় এখনও আসেনি এবং সামনে আরও বড় সাফল্য অপেক্ষা করছে। “আমার সেরা ফর্ম এখনও আসেনি। গুরুত্বপূর্ণ সব ম্যাচ সামনে,” তিনি জানান।
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনা ইতিমধ্যেই স্প্যানিশ সুপার কাপ জয় করেছে এবং লা লিগার শিরোপা দৌড়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতেও দলটির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। আজ রাতে কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে আলবাসেতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বার্সেলোনা। এই ম্যাচ নিয়ে ইয়ামাল বলেন, “আমরা কোপা দেল রের সেমিফাইনালে পৌঁছাতে চাই। এই শিরোপা আমাদের জেতা প্রয়োজন।”
সাম্প্রতিক তিন ম্যাচে লামিনে ইয়ামালের গোল করার ধারাবাহিকতা বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো, যা তার দলকে ফাইনালে পৌঁছানোর আশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই তরুণ তুর্কি তার এই অসাধারণ ফর্ম কতদিন ধরে রাখতে পারেন এবং বার্সেলোনার সাফল্যের পথে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
রিপোর্টারের নাম 
























