ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতার জন্য ভারতকে দায়ী করলেন আইসিসির সাবেক কর্মকর্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তার জন্য ভারতকে দায়ী করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক এক কর্মকর্তা। আইসিসির সাবেক হেড অব কমিউনিকেশনস সামি-উল-হাসান বার্নি মনে করেন, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) কিছু পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে তিনি এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বার্নির মতে, বিসিসিআই যদি কিছুটা কৌশল অবলম্বন করত, তবে চলমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি এড়ানো যেত এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে রক্ষা করা সম্ভব হতো। তিনি বলেন, মোস্তাফিজের সঙ্গে কলকাতা নাইট রাইডার্সের চুক্তি বাতিলের বিষয়টি বিসিসিআই প্রকাশ্যে ঘোষণা না করে, যদি ব্যক্তিগতভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলত, তাহলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর টুর্নামেন্ট বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তার ভাষ্যমতে, “বিসিসিআইয়ের উচিত ছিল বিষয়টি প্রকাশ্যে না এনে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ দেওয়া। তাহলে কেউই জানতে পারত না এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতেই থাকত। কিন্তু ৩ জানুয়ারির সেই ঘোষণাটিই মূলত ট্রিগার হিসেবে কাজ করেছে।”

আইসিসিতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করা সামি-উল-হাসান বার্নি পূর্বে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) মিডিয়া ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে আইসিসির অবস্থান পিসিবি এবং চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে হতাশ করেছে। নাকভি বিসিসিআইয়ের এই নীতিকে ‘গোলপোস্ট সরিয়ে নেওয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই চলমান অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের শাস্তির আশঙ্কাও করছেন বার্নি। তিনি ধারণা করছেন, আইসিসি যদি ন্যায়সঙ্গত বিচার করে, তাহলে পাকিস্তান শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারে। এর মধ্যে জরিমানা এবং সম্প্রচার স্বত্ব থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব হারানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বার্নি জানান, “একটি ম্যাচ না খেললে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে। পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব ৩৫.৫ মিলিয়ন ডলার, সুতরাং এই পার্থক্যটি অনেক বড়। তবে, এটা মনে রাখতে হবে যে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঘরের মাঠে খেলতে না পারলেও পাকিস্তান ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো বড় টুর্নামেন্ট জিতেছে।”

সাবেক এই আইসিসি কর্মকর্তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, মোস্তাফিজ ইস্যু নিয়ে ভারতীয় বোর্ডের প্রকাশ্য পদক্ষেপ এবং তাদের দ্বিমুখী নীতিই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রধান কারণ। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্ত দিক বিবেচনা করেছে, যা মোটেও সহজ কোনো কাজ ছিল না। এই ঘটনাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং আইসিসির পরবর্তী পদক্ষেপের উপর পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির গোলে মিয়ামির ঘামঝরানো জয়, মাঠে ভক্তের কাণ্ডে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতার জন্য ভারতকে দায়ী করলেন আইসিসির সাবেক কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ০৩:০৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তার জন্য ভারতকে দায়ী করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক এক কর্মকর্তা। আইসিসির সাবেক হেড অব কমিউনিকেশনস সামি-উল-হাসান বার্নি মনে করেন, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) কিছু পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে তিনি এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বার্নির মতে, বিসিসিআই যদি কিছুটা কৌশল অবলম্বন করত, তবে চলমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি এড়ানো যেত এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে রক্ষা করা সম্ভব হতো। তিনি বলেন, মোস্তাফিজের সঙ্গে কলকাতা নাইট রাইডার্সের চুক্তি বাতিলের বিষয়টি বিসিসিআই প্রকাশ্যে ঘোষণা না করে, যদি ব্যক্তিগতভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলত, তাহলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর টুর্নামেন্ট বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তার ভাষ্যমতে, “বিসিসিআইয়ের উচিত ছিল বিষয়টি প্রকাশ্যে না এনে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ দেওয়া। তাহলে কেউই জানতে পারত না এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতেই থাকত। কিন্তু ৩ জানুয়ারির সেই ঘোষণাটিই মূলত ট্রিগার হিসেবে কাজ করেছে।”

আইসিসিতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করা সামি-উল-হাসান বার্নি পূর্বে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) মিডিয়া ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে আইসিসির অবস্থান পিসিবি এবং চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে হতাশ করেছে। নাকভি বিসিসিআইয়ের এই নীতিকে ‘গোলপোস্ট সরিয়ে নেওয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই চলমান অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের শাস্তির আশঙ্কাও করছেন বার্নি। তিনি ধারণা করছেন, আইসিসি যদি ন্যায়সঙ্গত বিচার করে, তাহলে পাকিস্তান শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারে। এর মধ্যে জরিমানা এবং সম্প্রচার স্বত্ব থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব হারানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বার্নি জানান, “একটি ম্যাচ না খেললে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে। পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব ৩৫.৫ মিলিয়ন ডলার, সুতরাং এই পার্থক্যটি অনেক বড়। তবে, এটা মনে রাখতে হবে যে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঘরের মাঠে খেলতে না পারলেও পাকিস্তান ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো বড় টুর্নামেন্ট জিতেছে।”

সাবেক এই আইসিসি কর্মকর্তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, মোস্তাফিজ ইস্যু নিয়ে ভারতীয় বোর্ডের প্রকাশ্য পদক্ষেপ এবং তাদের দ্বিমুখী নীতিই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রধান কারণ। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্ত দিক বিবেচনা করেছে, যা মোটেও সহজ কোনো কাজ ছিল না। এই ঘটনাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং আইসিসির পরবর্তী পদক্ষেপের উপর পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।