আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ভারতের কিংবদন্তি স্পিনার হরভজন সিং। বাংলাদেশের প্রতি ‘সংহতি’ প্রদর্শনের যুক্তিতে এই ম্যাচ বয়কটের ঘোষণাটিকে তিনি ‘লোকদেখানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এর পেছনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় হরভজন তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান যদি তাদের এই সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পক্ষ থেকে সম্ভাব্য শাস্তির জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।” তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত কোনো বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়, বরং নিছক জনসমক্ষে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার একটি প্রচেষ্টা।
হরভজন আরও বলেন, “বাংলাদেশকে সমর্থনের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এর মাধ্যমে আসলে কী অর্জন হবে? এটি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। যারা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন, সেই সকল ক্রিকেটপ্রেমীদের কথা কি একবারও ভাবা হয়েছে?”
তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এবং সেখানে আপত্তির কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না। হরভজন বলেন, “যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও আপনারা এশিয়া কাপে খেলেছেন। তখন ট্রফি এবং ভেন্যু নিয়ে অনেক নাটক হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল, কারণ আপনারা রাজস্ব হারাতে চাননি। তখন দেশপ্রেম কোথায় ছিল?”
এই সিদ্ধান্তের কারণে পাকিস্তানকে বড় ধরনের মাশুল দিতে হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে আইসিসির ওপর নির্ভর করছে। হরভজন সিং বলেন, “আইসিসি যদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে পাকিস্তানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে, মোটা অঙ্কের জরিমানা হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে তারা কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হতে পারে।”
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন ক্রিকেট বিশ্ব আইসিসির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























