সীমান্তে ‘শকুনদের’ আনাগোনা: মামুনুল হকের অভিযোগ
মাদারীপুর: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, দেশের সীমান্ত অঞ্চলে ‘শকুনের আনাগোনা’ দেখা যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যাদের অসংখ্য মামলা থাকা সত্ত্বেও কারাগারে থাকার কথা, তারা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ‘হুংকার’ দিচ্ছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে মাদারীপুরের শিবচরে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
নন্দকুমার ইন্সটিটিউশন মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, “শহীদ ভাইয়েরা রক্ত দিয়ে যাদের বিতাড়িত করেছিলেন, যারা সন্ত্রাসী রাজনীতির ওপর নির্ভরশীল এবং মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করে, তাদের বিরুদ্ধে যখন অসংখ্য মামলা রয়েছে এবং কারাগারে থাকার কথা, তখন তারা কীভাবে ওসমান হাদির বাংলায় (বাংলাদেশ) প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে? তারা কীভাবে আবার এখানে হুংকার দিচ্ছে?”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের মানুষের মোটিভ পরিবর্তন হয়ে গেছে। তারা এখন দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে।” বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তারা মনে করে, তাদের ছাড়া দেশে কিছুই হবে না। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রমাণ করেছে যে, কোনো বড় রাজনৈতিক দল বা নেতার প্রয়োজন ছাড়াই এ দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখানো সম্ভব।
মামুনুল হক দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ২১৪ বছর ধরে এ দেশের মানুষ শাসনের নামে শোষিত হয়েছে এবং বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বিদেশি শাসকরা এ দেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ১৯০ বছর, ভারতীয় জমিদার ও দিল্লির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ বছর এবং পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২৪ বছর লড়াইয়ের পর ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে।
তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মানুষ ভেবেছিল, তারা আর শোষিত হবে না। কিন্তু সেই পরিস্থিতি পাল্টায়নি। তিনি বলেন, “আগে বিদেশিদের দ্বারা শোষিত হয়েছি, এখন স্বাধীনতার ৫৪ বছর ধরে দেশি মানুষ দ্বারা শোষিত হচ্ছি। শুধু শাসকের ধরণ বদলেছে, শোষণের ধরণ পাল্টায়নি।”
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “এ দেশের মানুষ এখন শপথ নিয়েছে, তারা লুটপাট, দুর্নীতি, গুণ্ডামি-মাস্তানির রাজনীতিকে ‘না’ বলবে।” এই পরিবর্তনের কারণেই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ১১ দলের পক্ষে জনতার স্রোত বইছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, তাদের এই পরিবর্তনের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন হবে জনগণের কাছে ভাতের অধিকার ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার নির্বাচন।
শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সরোয়ার হোসেন মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাদারীপুর ১ আসনের ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, জামায়াতে ইসলামীর মাদারীপুর জেলা আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমানসহ খেলাফত মজলিস, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, গণ-অধিকার পরিষদসহ ১১ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 

























