ঢাকা ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে পুতিনের অপ্রত্যাশিত জয়: রাশিয়ার অর্থনীতিতে স্বস্তির নিশ্বাস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের শেষ পরিণতি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই মুহূর্তে একটি বড় খবর হলো, এই সংকট রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এক অভাবনীয় সুবিধা এনে দিয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রাশিয়ার অর্থনীতিতে এক নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, যা দেশটির এতদিন ধরে নুয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙা করে তুলছে। যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুদিন আগেও রাশিয়ার নাম শুনতে রাজি ছিলেন না, তিনিই এখন পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যমান সংকট নিরসনে নতুন সম্পর্ক গড়ার আকুতি জানাচ্ছেন। এমনকি রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, যেমন দ্য পলিটিকো, বিবিসি, গ্লোবাল টাইমস এবং এনডিটিভি, তাদের প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করেছে কেন চলমান ইরান যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট পুতিন সবচেয়ে বড় বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার ফলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য এক অপ্রত্যাশিত সুসংবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন বছরে রাশিয়া একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিল: ইউক্রেনে তাদের বিশেষ সামরিক অভিযান সীমিত করা অথবা রুশ অর্থনীতির জন্য গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি নেওয়া। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট প্রায় রাতারাতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মাধ্যমে পুতিনের হাতে একটি টেকসই সমাধান তুলে দিয়েছে। ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেমলিনের রাজস্বের প্রধান উৎস বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ অভিযান চালিয়ে যাওয়া অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সহজতর হবে।

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ৬৯ ডলার থেকে বেড়ে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। রাশিয়ার জন্য এটি মেঘ না চাইতে বৃষ্টির মতোই। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে রাশিয়া আবির্ভূত হচ্ছে। রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি বছরের বাজেট পরিকল্পনায় দেশটির প্রধান রপ্তানিপণ্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৬ ডলারের একটি ভিত্তি ধরেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সবকিছু পাল্টে দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল্যস্ফীতির নতুন ঝড়: কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে পুতিনের অপ্রত্যাশিত জয়: রাশিয়ার অর্থনীতিতে স্বস্তির নিশ্বাস

আপডেট সময় : ০৭:২৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের শেষ পরিণতি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই মুহূর্তে একটি বড় খবর হলো, এই সংকট রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এক অভাবনীয় সুবিধা এনে দিয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রাশিয়ার অর্থনীতিতে এক নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, যা দেশটির এতদিন ধরে নুয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙা করে তুলছে। যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুদিন আগেও রাশিয়ার নাম শুনতে রাজি ছিলেন না, তিনিই এখন পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যমান সংকট নিরসনে নতুন সম্পর্ক গড়ার আকুতি জানাচ্ছেন। এমনকি রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, যেমন দ্য পলিটিকো, বিবিসি, গ্লোবাল টাইমস এবং এনডিটিভি, তাদের প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করেছে কেন চলমান ইরান যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট পুতিন সবচেয়ে বড় বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার ফলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য এক অপ্রত্যাশিত সুসংবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন বছরে রাশিয়া একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিল: ইউক্রেনে তাদের বিশেষ সামরিক অভিযান সীমিত করা অথবা রুশ অর্থনীতির জন্য গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি নেওয়া। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট প্রায় রাতারাতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মাধ্যমে পুতিনের হাতে একটি টেকসই সমাধান তুলে দিয়েছে। ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেমলিনের রাজস্বের প্রধান উৎস বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ অভিযান চালিয়ে যাওয়া অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সহজতর হবে।

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ৬৯ ডলার থেকে বেড়ে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। রাশিয়ার জন্য এটি মেঘ না চাইতে বৃষ্টির মতোই। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে রাশিয়া আবির্ভূত হচ্ছে। রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি বছরের বাজেট পরিকল্পনায় দেশটির প্রধান রপ্তানিপণ্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৬ ডলারের একটি ভিত্তি ধরেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সবকিছু পাল্টে দিয়েছে।