মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের আকাশে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সময়ে ইরান, লেবানন, কুয়েত, বাহরাইন এবং হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
বুধবার ভোরে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, হাফার আল-বাতিন এলাকায় দুটি ড্রোন এবং প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসের দিকে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক মিসাইল তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে। সকল ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির পুলিশপ্রধান আহমেদ-রেজা রাদান ঘোষণা দিয়েছেন যে, ‘শত্রুর আহ্বানে’ রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ইরানি নাগরিকদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আয়তুল্লাহর শাসনব্যবস্থা উৎখাত করে স্বাধীনতা অর্জন করা ইরানি জনগণের জন্য এটিই একমাত্র সুযোগ।
এরপর বুধবার ভোরে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক শহর তেল আবিবের কাছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। আল-জাজিরা ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ৩৭তম ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরুর ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে, লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ভোররাতে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে। হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ইসরায়েলের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের পর হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে গেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশে প্রবেশ করা পাঁচটি ড্রোনের মধ্যে চারটি তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। একটি ড্রোন অবশ্য হুমকির এলাকার বাইরে বিধ্বস্ত হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাহরাইনও জরুরি সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















