ঢাকা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ইরানের প্রতিরোধে হোঁচট খেলেন ট্রাম্প, যুদ্ধ অবসানের ইঙ্গিত

ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের আশায় ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটিতে হামলা চালায়। প্রথম হামলার পরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। দ্রুত সফলতা পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে নানা কথা বলতে থাকেন এবং একবার বলেছেন যে যুদ্ধ চার বা পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হবে, প্রয়োজনে ওয়াশিংটন আরও বেশিদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

কিন্তু ইরান পাল্টা হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব ঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ইসরাইলেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ শেষ করার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে শিগগিরই ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে। তবে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়, বরং তেহরানই যুদ্ধের শেষ কবে হবে তা নির্ধারণ করবে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নয় বলেও জানিয়েছে। এই তথ্য আলজাজিরা ও বিবিসির সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার ছিল যুদ্ধের একাদশতম দিন। এদিনও হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে দুই পক্ষ। ইরান আঘাত হেনেছে ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন স্বার্থে। অন্যদিকে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া লেবাননের পরিস্থিতিও দিন দিন নাজুক হচ্ছে।

রিপাবলিকান দলের সম্মেলনে সোমবার ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ একটি ছোট অভিযান ছিল। কিছু মন্দ লোককে নির্মূল করার জন্য এই যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল। এই পদক্ষেপ যদিও অর্থনীতিতে ‘সামান্য ধীরগতি’ সৃষ্টি করেছে, তবে দ্রুতগতিতে অর্থনীতির আবার উত্থান ঘটবে।

এই যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে এবং বাকিগুলোও খুব দ্রুত ধ্বংস করা হবে। মার্কিন সেনাবাহিনী ৪৬টি ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই অভিযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি অনেক নিরাপদ পৃথিবী তৈরি হবে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, ইরানে আক্রমণ না করলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর তেহরান ‘এক সপ্তাহের মধ্যে’ হামলা চালাত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি তেলে অস্থিরতা ও ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া: আশঙ্কার মুখে লাখো ঘরমুখো মানুষ

ইরানের প্রতিরোধে হোঁচট খেলেন ট্রাম্প, যুদ্ধ অবসানের ইঙ্গিত

আপডেট সময় : ০৮:২৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের আশায় ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটিতে হামলা চালায়। প্রথম হামলার পরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। দ্রুত সফলতা পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে নানা কথা বলতে থাকেন এবং একবার বলেছেন যে যুদ্ধ চার বা পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হবে, প্রয়োজনে ওয়াশিংটন আরও বেশিদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

কিন্তু ইরান পাল্টা হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব ঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ইসরাইলেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ শেষ করার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে শিগগিরই ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে। তবে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়, বরং তেহরানই যুদ্ধের শেষ কবে হবে তা নির্ধারণ করবে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নয় বলেও জানিয়েছে। এই তথ্য আলজাজিরা ও বিবিসির সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার ছিল যুদ্ধের একাদশতম দিন। এদিনও হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে দুই পক্ষ। ইরান আঘাত হেনেছে ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন স্বার্থে। অন্যদিকে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া লেবাননের পরিস্থিতিও দিন দিন নাজুক হচ্ছে।

রিপাবলিকান দলের সম্মেলনে সোমবার ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ একটি ছোট অভিযান ছিল। কিছু মন্দ লোককে নির্মূল করার জন্য এই যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল। এই পদক্ষেপ যদিও অর্থনীতিতে ‘সামান্য ধীরগতি’ সৃষ্টি করেছে, তবে দ্রুতগতিতে অর্থনীতির আবার উত্থান ঘটবে।

এই যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে এবং বাকিগুলোও খুব দ্রুত ধ্বংস করা হবে। মার্কিন সেনাবাহিনী ৪৬টি ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই অভিযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি অনেক নিরাপদ পৃথিবী তৈরি হবে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, ইরানে আক্রমণ না করলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর তেহরান ‘এক সপ্তাহের মধ্যে’ হামলা চালাত।