ঢাকা ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

চাঁদপুর-৩ আসনে জনগণের মুখোমুখি প্রার্থীরা: উন্নয়ন ও সুশাসনের একগুচ্ছ অঙ্গীকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

‘রাষ্ট্রের নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় চাঁদপুরে। চাঁদপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সরাসরি সাধারণ জনগণের মুখোমুখি হয়ে তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নির্বাচনী পরিকল্পনা তুলে ধরেন। গত রোববার সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সুজন চাঁদপুর জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখা হয়। বক্তারা প্রচলিত রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা কায়েমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ভোটারদের পক্ষ থেকে প্রার্থীরা সরাসরি প্রশ্নের সম্মুখীন হন। সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে উঠে আসে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশনগুলো পুনরায় চালুর দাবি। এছাড়া চাঁদপুর-কক্সবাজার সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালু, বড় স্টেশন মোলহেডকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, শহরের যানজট নিরসন এবং চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জোরালো দাবি জানানো হয়।

জনগণের এসব দাবির প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রার্থীরা। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, “নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে চাঁদপুরের উন্নয়ন করা হবে। আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত থাকবে।”

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান মিয়া তার বক্তব্যে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙন প্রতিরোধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী ফ্রন্টের এএইচএম আহসান উল্যাহ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জাহাঙ্গীর হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাকির হোসেন। প্রার্থীরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে চাঁদপুরের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুজন জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলম পলাশ, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফসহ সংগঠনের জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। সাধারণ ভোটাররা এ ধরনের আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রার্থীদের সরাসরি প্রশ্ন করার এই সুযোগ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথকে সুগম করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল্যস্ফীতির নতুন ঝড়: কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

চাঁদপুর-৩ আসনে জনগণের মুখোমুখি প্রার্থীরা: উন্নয়ন ও সুশাসনের একগুচ্ছ অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘রাষ্ট্রের নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় চাঁদপুরে। চাঁদপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সরাসরি সাধারণ জনগণের মুখোমুখি হয়ে তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নির্বাচনী পরিকল্পনা তুলে ধরেন। গত রোববার সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সুজন চাঁদপুর জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখা হয়। বক্তারা প্রচলিত রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা কায়েমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ভোটারদের পক্ষ থেকে প্রার্থীরা সরাসরি প্রশ্নের সম্মুখীন হন। সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে উঠে আসে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশনগুলো পুনরায় চালুর দাবি। এছাড়া চাঁদপুর-কক্সবাজার সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালু, বড় স্টেশন মোলহেডকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, শহরের যানজট নিরসন এবং চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জোরালো দাবি জানানো হয়।

জনগণের এসব দাবির প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রার্থীরা। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, “নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে চাঁদপুরের উন্নয়ন করা হবে। আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত থাকবে।”

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান মিয়া তার বক্তব্যে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙন প্রতিরোধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী ফ্রন্টের এএইচএম আহসান উল্যাহ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জাহাঙ্গীর হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাকির হোসেন। প্রার্থীরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে চাঁদপুরের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুজন জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলম পলাশ, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফসহ সংগঠনের জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। সাধারণ ভোটাররা এ ধরনের আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রার্থীদের সরাসরি প্রশ্ন করার এই সুযোগ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথকে সুগম করবে।