দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ জেলা ভোলা, যা মূলত তজুমদ্দিন ও লালমোহন উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-৩ সংসদীয় আসন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে বইছে নির্বাচনী আমেজ। স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত সর্বত্রই চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। নির্বাচনী প্রচারণার উত্তাপের মধ্যে সম্প্রতি জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও উত্তপ্ত বাদানুবাদ রাজনৈতিকThesণকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ঐতিহ্যগতভাবে এই আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিএনপি তাদের ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে এবং ধারাবাহিক বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া। অন্যদিকে, অতীতে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকলেও, এবারের নির্বাচনে তারা ভিন্ন কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত মনোনীত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-র তরুণ প্রার্থীর সুচিন্তিত রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং সুসংগঠিত নেতৃত্ব তাদের জন্য একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারা এই পরিস্থিতিকে বিএনপির দুর্গে জামায়াতের একটি উল্লেখযোগ্য ‘হানা’ হিসেবেই দেখছেন।
মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর কোলে অবস্থিত এই ধান-সুপারির দ্বীপ জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৩৩৪ জন। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, লালমোহন উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৩৪ জন এবং নদীভাঙন কবলিত তজুমদ্দিন উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৪ জন।
বিএনপির পক্ষ থেকে এবারও তাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে। তার কর্মী-সমর্থকরা বর্তমানে বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর নির্বাচনী এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-র প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম। তিনি ‘ফুলকপি’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। জামায়াতের কর্মীরা ফজর নামাজের পর থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘ফুলকপি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, জামায়াতের এই ব্যতিক্রমী ও আন্তরিক প্রচারণা গ্রামের নারী ভোটারদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।
জামায়াত সমর্থিত বিডিপির প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি নির্বাচিত হলে একজন সেবক হিসেবে জনগণের পাশে থাকবেন। এছাড়াও, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীনও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি কওমি মাদ্রাসা, তবলিগ-জামায়াত এবং হেফাজতসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের তরুণ প্রার্থী আতিকুর রহমান আবু তৈয়বও ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের জন্য পুরোদমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে সব মিলিয়ে, ভোটারদের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে ধানের শীষ এবং ফুলকপি প্রতীকের মধ্যেকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
রিপোর্টারের নাম 

























