ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারত-পাকিস্তান বিমানযুদ্ধে ইসলামাবাদের জয়: দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দীর্ঘকাল ধরে ভারতকে ‘ভারতীয় হাতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে, যা তার বিশাল আয়তন, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যাকে নির্দেশ করে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পরাজয়ের পর থেকে প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতকে সমীহ করে আসছে। আশির দশকে শ্রীলঙ্কার সাথে ভারতের আচরণের পর ইন্দিরা গান্ধী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ভারতকে অন্য কোনো দেশের সাথে তুলনা করা অনুচিত। তবে, পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। ভারত বুঝতে পারে যে, পারমাণবিক শক্তিধর দুটি রাষ্ট্রের উপস্থিতিতে একাধিপত্য সম্ভব নয়।

বিগত কয়েক দশকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের সুযোগে ভারত তার প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছিল। বিশেষ করে, ৯/১১-এর পর পশ্চিমা বিশ্ব ইসলামকে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করলে ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় তার প্রভাব আরও বাড়িয়ে তোলে। ২০১৪ সালে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরও পশ্চিমা বিশ্ব মুসলমানদের উপর নিপীড়ন উপেক্ষা করতে থাকে। গুজরাটে সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় নরেন্দ্র মোদির উপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যা অনেক মুসলিম রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকেও ক্ষুণ্ন করে।

২০২০ সালে করোনা মহামারীর বিশ্ব ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনলেও, উপমহাদেশে ৪৮ ঘণ্টার এক বিমানযুদ্ধে পাকিস্তান ভারতকে কিছুটা চমকে দিতে সক্ষম হয়। ভারতের পুলওয়ামায় হামলার পর পাকিস্তান পাল্টা বিমান হামলা চালায়, যেখানে ভারতের একটি মিগ-২১ বিমান বিধ্বস্ত হয় এবং পাইলট পাকিস্তানের হাতে বন্দি হন। এই ঘটনা ভারতের জন্য বিব্রতকর ছিল।

সম্প্রতি, ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে বেসামরিক ভারতীয়দের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত আবারও পাকিস্তানের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তবে, পাকিস্তান এবার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল এবং ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি হলেও, এই ঘটনা পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতা এবং পাকিস্তানের ‘মাল্টিডাইমেনশনাল ওয়ারফেয়ার’ কৌশল ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। পুরনো ‘ডগ ফাইটের’ পরিবর্তে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই যুদ্ধ কৌশল ভারতকে হতবাক করে দিয়েছে।

এই ঘটনাপ্রবাহের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তিত হচ্ছে। চীন ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। রাশিয়াও পাকিস্তানের সাথে অনাবশ্যক বৈরিতা এড়াতে চাইছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাকিস্তান সফর এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর ব্যর্থতা বিশ্ব দরবারে ভারতকে একঘরে করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারতের প্রভাব হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, চীন, তুরস্ক ও আজারবাইজান পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর এই ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন অনুধাবন করা প্রয়োজন। ভারতের প্রতি অতিমাত্রায় নতি স্বীকার বা ভীতি প্রদর্শন কোনোটাই কাম্য নয়। দেশপ্রেম এবং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নির্ধারণ করা উচিত। তরুণ প্রজন্মকে এই সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিলে শিক্ষার্থীদের ঢল, নৈতিকতা ও তাকওয়ার বার্তা

ভারত-পাকিস্তান বিমানযুদ্ধে ইসলামাবাদের জয়: দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দীর্ঘকাল ধরে ভারতকে ‘ভারতীয় হাতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে, যা তার বিশাল আয়তন, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যাকে নির্দেশ করে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পরাজয়ের পর থেকে প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতকে সমীহ করে আসছে। আশির দশকে শ্রীলঙ্কার সাথে ভারতের আচরণের পর ইন্দিরা গান্ধী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ভারতকে অন্য কোনো দেশের সাথে তুলনা করা অনুচিত। তবে, পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। ভারত বুঝতে পারে যে, পারমাণবিক শক্তিধর দুটি রাষ্ট্রের উপস্থিতিতে একাধিপত্য সম্ভব নয়।

বিগত কয়েক দশকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের সুযোগে ভারত তার প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছিল। বিশেষ করে, ৯/১১-এর পর পশ্চিমা বিশ্ব ইসলামকে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করলে ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় তার প্রভাব আরও বাড়িয়ে তোলে। ২০১৪ সালে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরও পশ্চিমা বিশ্ব মুসলমানদের উপর নিপীড়ন উপেক্ষা করতে থাকে। গুজরাটে সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় নরেন্দ্র মোদির উপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যা অনেক মুসলিম রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকেও ক্ষুণ্ন করে।

২০২০ সালে করোনা মহামারীর বিশ্ব ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনলেও, উপমহাদেশে ৪৮ ঘণ্টার এক বিমানযুদ্ধে পাকিস্তান ভারতকে কিছুটা চমকে দিতে সক্ষম হয়। ভারতের পুলওয়ামায় হামলার পর পাকিস্তান পাল্টা বিমান হামলা চালায়, যেখানে ভারতের একটি মিগ-২১ বিমান বিধ্বস্ত হয় এবং পাইলট পাকিস্তানের হাতে বন্দি হন। এই ঘটনা ভারতের জন্য বিব্রতকর ছিল।

সম্প্রতি, ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে বেসামরিক ভারতীয়দের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত আবারও পাকিস্তানের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তবে, পাকিস্তান এবার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল এবং ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি হলেও, এই ঘটনা পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতা এবং পাকিস্তানের ‘মাল্টিডাইমেনশনাল ওয়ারফেয়ার’ কৌশল ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। পুরনো ‘ডগ ফাইটের’ পরিবর্তে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই যুদ্ধ কৌশল ভারতকে হতবাক করে দিয়েছে।

এই ঘটনাপ্রবাহের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তিত হচ্ছে। চীন ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। রাশিয়াও পাকিস্তানের সাথে অনাবশ্যক বৈরিতা এড়াতে চাইছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাকিস্তান সফর এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর ব্যর্থতা বিশ্ব দরবারে ভারতকে একঘরে করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারতের প্রভাব হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, চীন, তুরস্ক ও আজারবাইজান পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর এই ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন অনুধাবন করা প্রয়োজন। ভারতের প্রতি অতিমাত্রায় নতি স্বীকার বা ভীতি প্রদর্শন কোনোটাই কাম্য নয়। দেশপ্রেম এবং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নির্ধারণ করা উচিত। তরুণ প্রজন্মকে এই সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।