বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু জামায়াতে ইসলামীকে ‘মুনাফিকের দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের রাজনৈতিকভাবে বর্জনের ডাক দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের মানুষের ওপর নৃশংসতা চালানো এই দলটি বর্তমানেও সাধারণ মানুষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর বাজার সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একলাশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন টিপুর সভাপতিত্বে ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম চুন্নুর সঞ্চালনায় এই বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্যে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, জামায়াতে ইসলামী ঐতিহাসিকভাবেই এ দেশের জনস্বার্থের পরিপন্থী অবস্থানে ছিল। তারা ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা সে সময় এ দেশের মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং ধর্মীয় ফতোয়ার অপব্যবহার করে অপরাধকে বৈধ করার চেষ্টা করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে তারা দেশের বিভিন্ন বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চাঁদাবাজি করেছে।
দেশের উন্নয়নে বিএনপির অবদানের কথা তুলে ধরে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভিত রচিত হয়েছে। তাদের হাত ধরেই আজ কোটি মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে, যার পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। তিনি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের কথা স্মরণ করে বলেন, এ দেশের ইতিহাসে তাদের প্রতি জনগণের যে ভালোবাসা দেখা গেছে, তা নজিরবিহীন।
বুলু আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র কেবল বিএনপি ও তারেক রহমানের নেতৃত্বেই নিরাপদ। এই লক্ষ্য অর্জনে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার জন্য তিনি জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুব আলমগীর আলো, বিএনপি নেত্রী শামীমা বরকত লাকি, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, সদস্য সচিব মাহফুজুল হক আবেদ এবং চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুন। এছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























