ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুনিরা হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। এ সময় তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা প্রদান, নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ধরেন।
একই দিনে মজিবুর রহমান মঞ্জু ফেনীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে বিজিবি ফেনীর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোশারফ হোসেন, সেনাবাহিনীর ফেনী অধিনায়ক লে. কর্নেল আমানুল হক পিএসসি এবং র্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফফর হোসেনের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে তিনি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, তাদের একটি প্রচার ক্যারাভান আটকে দিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন জোটের এক কর্মীকে হেনস্তা করেছেন এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বলেন, “সারাদেশে এবং ফেনীর অন্যান্য আসনেও একই ধরনের প্রচার ক্যারাভান চললেও কেবল আমাদের ক্ষেত্রেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার আচরণে স্পষ্ট যে, তারা একটি বিশেষ পক্ষের হয়ে কাজ করছেন।” রঙিন ব্যানার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট একটি কর্মসূচি উপলক্ষে এসব ব্যানার লাগানো হলেও তা পরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, অথচ অন্য দলের ক্ষেত্রে এমন কোনো আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
মঞ্জু আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে তাদের নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবহার করে ভোটারদের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর মতো অনিয়মও অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
নির্বাচনি পরিবেশে শঙ্কার কথা জানিয়ে জোটের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আমাদের জনসমর্থন দেখে প্রতিপক্ষের মধ্যে ধৈর্যচ্যুতি ও আত্মবিশ্বাসের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা চাই ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। কেন্দ্র দখল, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো কিংবা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে হুমকি দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছি।”
সাক্ষাৎকালে মজিবুর রহমান মঞ্জুর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট আনম আবদুর রহিম, এবি পার্টির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহআলম বাদল, জেলা সদস্য সচিব ফজলুল হক, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক আজিজুর রহমান রিজভী এবং জেলা এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্যাহ মানিকসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
রিপোর্টারের নাম 

























