ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ছয় বছর ধরে টিনশেড ভবনে মানবেতর জীবনযাপন করছে শিক্ষার্থীরা, নতুন ভবন নির্মাণ বাধাগ্রস্ত

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার খাড়াতাইয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ ছয় বছর ধরে আটকে আছে। স্থানীয়দের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে গত ছয় বছর ধরে জোড়াতালি দেওয়া টিনশেড ভবনে কোনোমতে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনের ছাদ ফুটো ও ভেঙে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে বই-খাতা ভিজে যায়। অন্যদিকে, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যালয়ের পাখা চুরি হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের গাছতলায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। বৃষ্টি নামলে শিক্ষকদের ছাতা মাথায় দিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে শ্রেণিকক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল ও বৈদ্যুতিক পাখা চুরি হয়ে যায়। এর আগে থেকেই জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছিল। বর্তমানে কখনো গাছতলায়, আবার কখনো ছাতা মাথায় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৬ জুলাই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি একটি একচালা টিনশেড ঘরে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে টিনের ফাঁক দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের গায়ে, যা তাদের বই-খাতা ভিজিয়ে দেয় এবং মেঝেতে পানি জমে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছরিন আক্তারকে ছাতা মাথায় দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে দেখা গেছে। প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীদের কষ্টের পাশাপাশি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের এমন দুরবস্থার কারণে গত এক বছরে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছে। বর্তমানে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। অভিভাবকদের মধ্যেও সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা তৈরি হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন জানান, গরমে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ায় গাছতলায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। গত শুক্রবার পাখা চুরি হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্কিত ফাইনালের পর অবসরে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ

ছয় বছর ধরে টিনশেড ভবনে মানবেতর জীবনযাপন করছে শিক্ষার্থীরা, নতুন ভবন নির্মাণ বাধাগ্রস্ত

আপডেট সময় : ০১:৩০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার খাড়াতাইয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ ছয় বছর ধরে আটকে আছে। স্থানীয়দের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে গত ছয় বছর ধরে জোড়াতালি দেওয়া টিনশেড ভবনে কোনোমতে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনের ছাদ ফুটো ও ভেঙে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে বই-খাতা ভিজে যায়। অন্যদিকে, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যালয়ের পাখা চুরি হয়ে যাওয়ায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের গাছতলায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। বৃষ্টি নামলে শিক্ষকদের ছাতা মাথায় দিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে শ্রেণিকক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল ও বৈদ্যুতিক পাখা চুরি হয়ে যায়। এর আগে থেকেই জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছিল। বর্তমানে কখনো গাছতলায়, আবার কখনো ছাতা মাথায় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৬ জুলাই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি একটি একচালা টিনশেড ঘরে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে টিনের ফাঁক দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের গায়ে, যা তাদের বই-খাতা ভিজিয়ে দেয় এবং মেঝেতে পানি জমে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছরিন আক্তারকে ছাতা মাথায় দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে দেখা গেছে। প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীদের কষ্টের পাশাপাশি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের এমন দুরবস্থার কারণে গত এক বছরে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছে। বর্তমানে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। অভিভাবকদের মধ্যেও সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা তৈরি হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন জানান, গরমে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ায় গাছতলায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। গত শুক্রবার পাখা চুরি হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।