বাগেরহাটের মোংলা নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ২০ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ থাকায় মোংলাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জোয়ারের অপেক্ষায় অ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাসসহ শত শত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরিঘাটে আটকে থাকছে।
২০০২ সালে মোংলা নদীতে ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীর দক্ষিণ প্রান্তে পুরোনো মোংলা এবং উত্তর প্রান্তে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি ফেরিঘাট নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হলে মোংলা শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানবাহন চলাচল সহজ হয়। এতে মাছ ও কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ সাশ্রয় হয় এবং ফেরি সার্ভিস দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।
তবে, ফেরি চালুর পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যেই নদীতে চর জেগে ওঠায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে শুরু করে। বর্তমানে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পানির অভাবে দিনের বেশিরভাগ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বর্তমানে মাত্র একটি ফেরি এই রুটে চলাচল করছে।
ফেরি মাস্টার চালক মো. মাসুম জানান, ভাটার সময় নদীর দক্ষিণ পাড়ের পুরোনো মোংলা অংশ থেকে মাঝ নদী পর্যন্ত চর জেগে ওঠে। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় ফেরি চালানো সম্ভব হয় না। ফেরিঘাটের পল্টুন ও বেইলি ব্রিজ কয়েক দফায় প্রায় ৩০০ ফুট নদীর দিকে বাড়ানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সম্প্রতি বর্ধিত অংশেও নতুন করে চর জেগে উঠেছে। বিশেষ করে শীতকালে এই সমস্যা আরও তীব্র হয়।
সম্প্রতি মোংলা ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পারাপারের অপেক্ষায় প্রায় ৩০টিরও বেশি যানবাহন দাঁড়িয়ে আছে। ফেরিটি জেগে ওঠা চরে আটকে আছে। খুলনা থেকে পণ্য নিয়ে আসা ব্যবসায়ী মো. ফরিদ শেখ জানান, তিনি রোববার রাতে জোয়ারের সময় ফেরি চালু হলে মোংলায় প্রবেশ করতে পেরেছেন। পণ্য সরবরাহ শেষে সোমবার ভোর থেকে ফেরিঘাটে অপেক্ষা করছেন। চালক জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় জোয়ার এলে ফেরি ছাড়বে। কবে নাগাদ খুলনায় ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।
মোংলা পৌরসভার সাবেক মেয়র জুলফিকার আলী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গুরুতর রোগীদের খুলনায় রেফার করা হয়। কিন্তু ভাটার সময় ফেরি বন্ধ থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
উপজেলার মৎস্য আড়তদার মো. সুমন জানান, দ্রুত পচনশীল ও জরুরি পণ্য সময়মতো পারাপার করা না গেলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জোয়ারে নদী সম্পূর্ণ ভরাট না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচলের উপযোগী হয় না। এতে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে মোংলা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন আক্তার সুমি বলেন, কয়েক দফায় ঘাট সম্প্রসারণ করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খনন জরুরি। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























