ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর চাপে জোটপ্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। দলীয় নির্দেশনা এবং বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও এস এন তরুণ দে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ানোয় জোটসমর্থিত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব চরম চাপের মুখে পড়েছেন।

দলীয় সূত্রমতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির শীর্ষ মহল তাদের সঙ্গে সমঝোতার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও দুজন বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় আছেন, তবে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রচারণায় বেশি যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও একটি অভিযোগ উঠেছে যে, রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীদের যেভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে, এস এন তরুণ দে’র পক্ষে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে সে তুলনায় কম সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় টিকিট না পাওয়ায় সাবেক ও বর্তমান একাধিক স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় স্থানীয় বিএনপি ইউনিটগুলোতে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে, যা আসনটিতে বিএনপির সামগ্রিক নির্বাচনি সমন্বয়কে দুর্বল করে তুলেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং দলীয় পদ ধরে রেখে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বারবার চেষ্টা করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় অনেক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে, তারা দাবি করেছেন যে, জোটপ্রার্থীর সঙ্গে করা রাজনৈতিক সমঝোতা ও প্রতিশ্রুতি বিএনপি যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবে।

অন্যদিকে, জোটের আসন ভাগাভাগির চুক্তি অনুযায়ী যে আসন জোটসঙ্গীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেই আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় জোটের ভেতরে অস্বস্তি বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতে ভোট বিভাজন এবং সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় সরাইল উপজেলা বিএনপি অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। তবে, বহিষ্কৃতদের একটি বড় অংশ এখনও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের দলীয় ও জোটসমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমানের নতুন সমাবেশ: প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর চাপে জোটপ্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব

আপডেট সময় : ০৩:২৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। দলীয় নির্দেশনা এবং বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও এস এন তরুণ দে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ানোয় জোটসমর্থিত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব চরম চাপের মুখে পড়েছেন।

দলীয় সূত্রমতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির শীর্ষ মহল তাদের সঙ্গে সমঝোতার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও দুজন বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় আছেন, তবে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রচারণায় বেশি যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও একটি অভিযোগ উঠেছে যে, রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীদের যেভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে, এস এন তরুণ দে’র পক্ষে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে সে তুলনায় কম সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় টিকিট না পাওয়ায় সাবেক ও বর্তমান একাধিক স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় স্থানীয় বিএনপি ইউনিটগুলোতে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে, যা আসনটিতে বিএনপির সামগ্রিক নির্বাচনি সমন্বয়কে দুর্বল করে তুলেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং দলীয় পদ ধরে রেখে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বারবার চেষ্টা করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় অনেক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে, তারা দাবি করেছেন যে, জোটপ্রার্থীর সঙ্গে করা রাজনৈতিক সমঝোতা ও প্রতিশ্রুতি বিএনপি যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবে।

অন্যদিকে, জোটের আসন ভাগাভাগির চুক্তি অনুযায়ী যে আসন জোটসঙ্গীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেই আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় জোটের ভেতরে অস্বস্তি বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতে ভোট বিভাজন এবং সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় সরাইল উপজেলা বিএনপি অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। তবে, বহিষ্কৃতদের একটি বড় অংশ এখনও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের দলীয় ও জোটসমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।