ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ-৩ আসনে উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা দিন-রাত বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা আসনজুড়ে এক নির্বাচনী আমেজ তৈরি করেছে। মিছিল-সমাবেশে ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা নানা ধরনের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছুটিয়ে চলেছেন।
এই আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন জিকে গউছ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে কাজী মহসিন আহমদ, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন থেকে খেজুর গাছ প্রতীকে মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙল প্রতীকে আব্দুল মুমিন চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মোমবাতি প্রতীকে এসএম সরওয়ার এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট থেকে ছরি প্রতীকে শাহীনুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে গণসংযোগ করছেন। লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ এবং পথসভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম নগরীর অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্বাচন এলেই প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ ভোটারদের কেউ কেউ। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর এসব প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেন। তরুণ ভোটার ভিংরাজ মিয়া জানান, এবার তারা যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকেই ভোট দেবেন।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জিকে গউছ প্রচার-প্রচারণায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে আছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। তাঁর গণসংযোগ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা চারপাশকে ধানের শীষের স্লোগানে মুখরিত করে তুলছে।
গণসংযোগকালে জিকে গউছ নির্বাচিত হলে হবিগঞ্জ-৩ আসনের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি অবহেলিত এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদও প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। কাজী মহসিন আহমদ বলেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনকে একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে তিনি একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের এই প্রচার-প্রচারণায় কোন প্রার্থী ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করতে পারেন, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ। এবারের ভোটাররা কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে বাস্তব উন্নয়ন দেখতে আগ্রহী।
রিপোর্টারের নাম 























