আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে চলছে নির্বাচনী আমেজ। এই আবহে, সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তাদের অতীত জীবনের নানা দিক নিয়ে জনমনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীদের শিক্ষাগত পটভূমি জানতে আগ্রহী সাধারণ মানুষ।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ২৫ জন প্রার্থী তাদের ছাত্রজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশের ২২২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থীদের অনেকেই মতিহারের সবুজ চত্বরে জ্ঞানার্জন করেছেন।
এই ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের ড. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নুরুল ইসলাম বুলবুল, শেরপুর-১ আসনের হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৫ আসনের জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ, পটুয়াখালী-২ আসনের ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কুমিল্লা-৫ আসনের ড. মোবারক হোসাইন, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, পাবনা-২ আসনের অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন, পাবনা-৪ আসনের অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলিম, যশোর-৪ আসনের গোলাম রসুল।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঝিনাইদহ-২ আসনের আলী আজম মো. আবুবকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের অধ্যাপক মতিউর রহমান, বরিশাল-৪ আসনের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার, খুলনা-৩ আসনের অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, রংপুর-৩ আসনের মাহবুবুর রহমান বেলাল, কুড়িগ্রাম-১ আসনের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহী, নীলফামারী-৪ আসনের হাফেজ মাওলানা আব্দুল মোনতাকিম, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের দেলোয়ার হোসাইন, রাজশাহী-১ আসনের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রাজশাহী-৩ আসনের আবুল কালাম আজাদ এবং ঢাকা-১৬ আসনের কর্ণেল আব্দুল বাতেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টি নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এতজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবার সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হয়েছেন, যা সত্যিই গর্বের বিষয়। আমার জানামতে, অতীতে কখনো এত সংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হননি। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক বিরল সম্মান। এটি প্রমাণ করে যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্বও তৈরি করতে সক্ষম।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের এই প্রাক্তন ভাইদের সফলতা কামনা করছি। আশা করি, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারবে।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক ভিপি ও সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জানান, ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি, সেক্রেটারি, সেক্রেটারিয়েট সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ২৪ জন এবার সংসদ সদস্য নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, তারা নিজ নিজ আসনে খুব ভালো অবস্থানে রয়েছেন। আল্লাহ কবুল করলে তাদের অনেকেই সংসদ সদস্য, এমনকি মন্ত্রীও হতে পারেন।” তিনি আরও বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের অনেক শহীদ ও আহত সদস্য থাকা সত্ত্বেও, একটি ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব পর্যায় থেকে এতজন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন, এটি এর চেয়ে বড় দৃষ্টান্ত আর কী হতে পারে!”
রিপোর্টারের নাম 























