ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কমলার (হাসিনা) বনবাস ও লেন্দুপ দর্জি প্রসঙ্গ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

## শিরোনাম: ক্ষমতাচ্যুত হাসিনার ‘বনবাস’: লেন্দুপ দর্জির ছায়ায় বাংলাদেশের রাজনীতি

ঢাকা: দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতের আশ্রয় নেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বনবাস’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এই ‘বনবাস’ শব্দটি রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় সিনেমা ‘কমলার বনবাস’-এর সঙ্গে তুলনীয়। একই সঙ্গে, তার ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং সিকিমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লেন্দুপ দর্জির সঙ্গে তার তুলনাও রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।

‘বনবাস’ ও সহানুভূতির কৌশল:

সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমি তোমাদের ছেড়ে ভারতে আসতে চাইনি। আমি তো মনে করেছিলাম, আমাকে গোপালগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে। বিমান থেকে নেমে দেখি আমি ভারতে। আমি তোমাদের ছেড়ে এখানে বনবাসে আছি। যদিও তারা আমাকে আদরযত্ন করছে।” এই উক্তিটি অনেকের কাছেই নেতাকর্মীদের প্রতি তার এক ধরনের সহানুভূতি প্রকাশের কৌশল বলে মনে হচ্ছে। তবে, সমালোচকদের মতে, তিনি নিজে পালিয়ে যাওয়ার আগে দলের এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা প্রায় ৬৫-৭০ জন নিকটাত্মীয়সহ পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

ক্ষমতাচ্যুতির দুই দিন আগে, ঢাকার মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস সাধারণ যাত্রীবেশে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পার হতে গেলে এক পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর তাকে বাধা দেন। এই ঘটনায় তাপস তৎক্ষণাৎ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেন। তাদের কথোপকথনের একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। যেখানে তাপস ভয়ার্ত কণ্ঠে হাসিনাকে বলেন, “হাসু বু। আমি একটু সিঙ্গাপুর যেতে এয়ারপোর্টে এসেছি। একজন সাব-ইন্সপেক্টর আমাকে যেতে দিচ্ছেন না। তুমি একটু বলে দাও। আমি তোমাকে ফোনটি তার কাছে দিচ্ছি।” হাসির উত্তরে তিনি বলেন, “আমি (প্রধানমন্ত্রী) একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে কীভাবে বলি? বলো? তুমি অপেক্ষা করো। আমি অফিসারদের বলছি।”

ভারতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ও ‘কমলার বনবাস’:

‘বনবাস’ শব্দটি এবার হঠাৎ করে আলোচনায় আসেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার পতন হয় এবং তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। সে সময়ও ‘কমলার বনবাস’ হিসেবে শেখ হাসিনার পলায়ন ও ভারতে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

শেখ হাসিনা কেন আশ্রয়ের জন্য ভারতকে বেছে নিলেন, তার কারণও স্পষ্ট। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভারতের আশীর্বাদ ও পূর্ণ সহযোগিতা নিয়ে সাড়ে ১৫ বছর কোনো ভোট ছাড়াই বাংলাদেশের ক্ষমতায় টিকে ছিলেন এবং ভারতের সব আবদার পূরণ করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, “আমি ভারতকে যা দিয়েছি। তারা সেটা আজীবন মনে রাখবে।”

অনুসন্ধান বলছে, সাড়ে ১৫ বছরে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে অন্তত ২০টি চুক্তি ও ৬৬টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চুক্তিগুলোর অধিকাংশেই বাংলাদেশের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। বিনা মাশুলে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতকে ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট দেওয়া হয়েছে। আদানি চুক্তির মতো চুক্তি করে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

লেন্দুপ দর্জি ও শেখ হাসিনার অভিন্ন উপাখ্যান:

রাজনীতিতে শেখ হাসিনা ও লেন্দুপ দর্জির মধ্যে চরিত্রগত মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকেই। সম্প্রতি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়াও শেখ হাসিনাকে লেন্দুপ দর্জির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ইতিহাস অনুযায়ী, লেন্দুপ দর্জি ছিলেন বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের সেবাদাস। তিনি তার দেশ সিকিমকে ভারতের হাতে তুলে দেন। ভারত সিকিমকে নিজেদের অঙ্গীভূত করে রাজ্যের মর্যাদা দেয় এবং লেন্দুপ দর্জি হন এ রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। ২০০৭ সালে ভারতের মাটিতেই তিনি মারা যান।

সমালোচকদের মতে, শেখ হাসিনা ও লেন্দুপ দর্জির মধ্যে সাদৃশ্য হলো, দুজনেই তাদের দেশকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। লেন্দুপ দর্জি ভারতের কাছে সিকিমকে সমর্পণ করেছিলেন, আর শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছেন বলে অভিযোগ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রায় এক যুগ আগে এক জনসভায় শেখ হাসিনাকে ভারতের দালাল লেন্দুপ দর্জি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, “আপনি ভারতের দালালি করছেন। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্যকে ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছেন। আপনি ভারতের দালালি ছাড়ুন। লেন্দুপ দর্জির জীবন থেকে শিক্ষা নেন।”

বর্তমানে শেখ হাসিনার ‘ভারতে বনবাস’ সংক্রান্ত উক্তিকে অনেকে বেগম খালেদা জিয়ার সেই অভিব্যক্তির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “ইন্ডিয়া ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের সহযোগী ছিল এবং শেখ হাসিনার প্রতি এখনো রাষ্ট্রীয় সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। এই অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের বিরোধের মূল বিষয় হলো—ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, হত্যাযজ্ঞ এবং জাতীয় সম্পদ লুটপাটের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা।” তিনি আরও বলেন, শীর্ষ অপরাধীদের বড় অংশই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছে, যা ভারত অবারিতভাবে হতে দিয়েছে।

এই সকল অভিযোগ ও তুলনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং ভবিষ্যতে দেশটির রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

কমলার (হাসিনা) বনবাস ও লেন্দুপ দর্জি প্রসঙ্গ

আপডেট সময় : ০৯:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## শিরোনাম: ক্ষমতাচ্যুত হাসিনার ‘বনবাস’: লেন্দুপ দর্জির ছায়ায় বাংলাদেশের রাজনীতি

ঢাকা: দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতের আশ্রয় নেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বনবাস’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এই ‘বনবাস’ শব্দটি রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় সিনেমা ‘কমলার বনবাস’-এর সঙ্গে তুলনীয়। একই সঙ্গে, তার ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং সিকিমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লেন্দুপ দর্জির সঙ্গে তার তুলনাও রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।

‘বনবাস’ ও সহানুভূতির কৌশল:

সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমি তোমাদের ছেড়ে ভারতে আসতে চাইনি। আমি তো মনে করেছিলাম, আমাকে গোপালগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে। বিমান থেকে নেমে দেখি আমি ভারতে। আমি তোমাদের ছেড়ে এখানে বনবাসে আছি। যদিও তারা আমাকে আদরযত্ন করছে।” এই উক্তিটি অনেকের কাছেই নেতাকর্মীদের প্রতি তার এক ধরনের সহানুভূতি প্রকাশের কৌশল বলে মনে হচ্ছে। তবে, সমালোচকদের মতে, তিনি নিজে পালিয়ে যাওয়ার আগে দলের এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা প্রায় ৬৫-৭০ জন নিকটাত্মীয়সহ পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

ক্ষমতাচ্যুতির দুই দিন আগে, ঢাকার মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস সাধারণ যাত্রীবেশে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পার হতে গেলে এক পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর তাকে বাধা দেন। এই ঘটনায় তাপস তৎক্ষণাৎ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেন। তাদের কথোপকথনের একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। যেখানে তাপস ভয়ার্ত কণ্ঠে হাসিনাকে বলেন, “হাসু বু। আমি একটু সিঙ্গাপুর যেতে এয়ারপোর্টে এসেছি। একজন সাব-ইন্সপেক্টর আমাকে যেতে দিচ্ছেন না। তুমি একটু বলে দাও। আমি তোমাকে ফোনটি তার কাছে দিচ্ছি।” হাসির উত্তরে তিনি বলেন, “আমি (প্রধানমন্ত্রী) একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে কীভাবে বলি? বলো? তুমি অপেক্ষা করো। আমি অফিসারদের বলছি।”

ভারতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ও ‘কমলার বনবাস’:

‘বনবাস’ শব্দটি এবার হঠাৎ করে আলোচনায় আসেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার পতন হয় এবং তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। সে সময়ও ‘কমলার বনবাস’ হিসেবে শেখ হাসিনার পলায়ন ও ভারতে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

শেখ হাসিনা কেন আশ্রয়ের জন্য ভারতকে বেছে নিলেন, তার কারণও স্পষ্ট। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভারতের আশীর্বাদ ও পূর্ণ সহযোগিতা নিয়ে সাড়ে ১৫ বছর কোনো ভোট ছাড়াই বাংলাদেশের ক্ষমতায় টিকে ছিলেন এবং ভারতের সব আবদার পূরণ করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, “আমি ভারতকে যা দিয়েছি। তারা সেটা আজীবন মনে রাখবে।”

অনুসন্ধান বলছে, সাড়ে ১৫ বছরে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে অন্তত ২০টি চুক্তি ও ৬৬টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চুক্তিগুলোর অধিকাংশেই বাংলাদেশের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। বিনা মাশুলে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতকে ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট দেওয়া হয়েছে। আদানি চুক্তির মতো চুক্তি করে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

লেন্দুপ দর্জি ও শেখ হাসিনার অভিন্ন উপাখ্যান:

রাজনীতিতে শেখ হাসিনা ও লেন্দুপ দর্জির মধ্যে চরিত্রগত মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকেই। সম্প্রতি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়াও শেখ হাসিনাকে লেন্দুপ দর্জির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ইতিহাস অনুযায়ী, লেন্দুপ দর্জি ছিলেন বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের সেবাদাস। তিনি তার দেশ সিকিমকে ভারতের হাতে তুলে দেন। ভারত সিকিমকে নিজেদের অঙ্গীভূত করে রাজ্যের মর্যাদা দেয় এবং লেন্দুপ দর্জি হন এ রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। ২০০৭ সালে ভারতের মাটিতেই তিনি মারা যান।

সমালোচকদের মতে, শেখ হাসিনা ও লেন্দুপ দর্জির মধ্যে সাদৃশ্য হলো, দুজনেই তাদের দেশকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। লেন্দুপ দর্জি ভারতের কাছে সিকিমকে সমর্পণ করেছিলেন, আর শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছেন বলে অভিযোগ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রায় এক যুগ আগে এক জনসভায় শেখ হাসিনাকে ভারতের দালাল লেন্দুপ দর্জি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, “আপনি ভারতের দালালি করছেন। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্যকে ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছেন। আপনি ভারতের দালালি ছাড়ুন। লেন্দুপ দর্জির জীবন থেকে শিক্ষা নেন।”

বর্তমানে শেখ হাসিনার ‘ভারতে বনবাস’ সংক্রান্ত উক্তিকে অনেকে বেগম খালেদা জিয়ার সেই অভিব্যক্তির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “ইন্ডিয়া ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের সহযোগী ছিল এবং শেখ হাসিনার প্রতি এখনো রাষ্ট্রীয় সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। এই অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের বিরোধের মূল বিষয় হলো—ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, হত্যাযজ্ঞ এবং জাতীয় সম্পদ লুটপাটের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা।” তিনি আরও বলেন, শীর্ষ অপরাধীদের বড় অংশই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছে, যা ভারত অবারিতভাবে হতে দিয়েছে।

এই সকল অভিযোগ ও তুলনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং ভবিষ্যতে দেশটির রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।