ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

রংপুর-১: জনগণের মুখোমুখি হয়ে প্রার্থীদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সম্প্রীতির বার্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটি করপোরেশনের ১-৯ নম্বর ওয়ার্ড) আসনের প্রার্থীরা সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এক জনসভায় তারা নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন, এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নির্বাচিত হলে একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

গত শনিবার গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন) উপজেলা কমিটির উদ্যোগে ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছাড়াও শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন তার বক্তব্যে বলেন, জনপ্রতিনিধি হওয়া মানে ক্ষমতার দাপট দেখানো নয়, বরং জনগণের সেবক হওয়া। তিনি নির্বাচিত হলে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে জনগণের আস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রায়হান সিরাজী বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো অপরিহার্য। তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু নৈতিকতা ও সুশাসনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী আনাস জানান, তিনি নির্বাচিত হলে নিয়মিত জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধান করবেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী আহসানুল আরেফিন শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষা এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রার্থীদের লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর। এতে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচনে জয়ী হলে তারা স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও দলীয়করণের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করবেন। পাশাপাশি নির্বাচনে পরাজিত হলেও তারা গণরায় মেনে নেবেন এবং বিজয়ী প্রার্থীকে এলাকার উন্নয়নে সহযোগিতা করবেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রার্থীরা একে অপরের হাত ধরে এবং কোলাকুলির মাধ্যমে রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

এ সময় উপস্থিত সাধারণ ভোটাররাও একটি শপথ বাক্য পাঠ করেন। তারা অঙ্গীকার করেন যে, কোনো প্রকার প্রলোভন বা কালো টাকার বিনিময়ে তারা ভোট দেবেন না; বরং সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকেই তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবেন।

উপজেলা সুজন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ নূরন নবীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা ও মহানগর সুজনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রার্থীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সুজনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সাজ্জাদ স্বাধীন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সুজন নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব অর্থনীতিতে সেমিকন্ডাক্টরের রাজত্ব এবং বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা

রংপুর-১: জনগণের মুখোমুখি হয়ে প্রার্থীদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সম্প্রীতির বার্তা

আপডেট সময় : ০৩:২৪:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটি করপোরেশনের ১-৯ নম্বর ওয়ার্ড) আসনের প্রার্থীরা সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এক জনসভায় তারা নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন, এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নির্বাচিত হলে একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

গত শনিবার গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন) উপজেলা কমিটির উদ্যোগে ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছাড়াও শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন তার বক্তব্যে বলেন, জনপ্রতিনিধি হওয়া মানে ক্ষমতার দাপট দেখানো নয়, বরং জনগণের সেবক হওয়া। তিনি নির্বাচিত হলে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে জনগণের আস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রায়হান সিরাজী বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো অপরিহার্য। তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু নৈতিকতা ও সুশাসনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী আনাস জানান, তিনি নির্বাচিত হলে নিয়মিত জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধান করবেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী আহসানুল আরেফিন শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষা এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রার্থীদের লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর। এতে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচনে জয়ী হলে তারা স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও দলীয়করণের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করবেন। পাশাপাশি নির্বাচনে পরাজিত হলেও তারা গণরায় মেনে নেবেন এবং বিজয়ী প্রার্থীকে এলাকার উন্নয়নে সহযোগিতা করবেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রার্থীরা একে অপরের হাত ধরে এবং কোলাকুলির মাধ্যমে রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

এ সময় উপস্থিত সাধারণ ভোটাররাও একটি শপথ বাক্য পাঠ করেন। তারা অঙ্গীকার করেন যে, কোনো প্রকার প্রলোভন বা কালো টাকার বিনিময়ে তারা ভোট দেবেন না; বরং সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকেই তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবেন।

উপজেলা সুজন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ নূরন নবীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা ও মহানগর সুজনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রার্থীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সুজনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সাজ্জাদ স্বাধীন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সুজন নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।