ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জ-২ আসনে ভোটের লড়াই: অভিজ্ঞ বনাম তারুণ্যের দ্বৈরথে সরগরম দিরাই-শাল্লা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই এই জনপদে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পথসভা, উঠান বৈঠক আর গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর স্বপ্নের কথা জানাচ্ছেন তারা। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এবার প্রার্থীদের পরিবারের সদস্যদেরও কোমর বেঁধে মাঠে নামতে দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে এবার প্রবীণ ও নবীনের এক আকর্ষণীয় লড়াই প্রত্যক্ষ করছেন স্থানীয়রা। বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর বিপরীতে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ১০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী শিশির মনির। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের এই লড়াইকে কেন্দ্র করে দিরাই ও শাল্লার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচনী মাঠ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রচারের ধরনে এবার এসেছে ভিন্নতা। পরিবেশ রক্ষায় কাগজের পোস্টারের চেয়ে ডিজিটাল প্রচারণায় বেশি জোর দিচ্ছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে জনপদ। তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রার্থীরা গ্রহণ করছেন নানা সৃজনশীল কৌশল।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দীন চৌধুরী দুইবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে চষে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, প্রবীণ এই নেতা দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন, যা তাকে নির্বাচনী দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। তার সমর্থকরা মনে করেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং অভিভাবক হিসেবে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ ভোটাররা তাকেই বেছে নেবেন।

অন্যদিকে, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী শিশির মনির আধুনিক ও উন্নয়নমুখী প্রচারণার মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। পেশায় আইনজীবী শিশির মনির ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব উপস্থিতির পাশাপাশি বিভিন্ন জনহিতকর কাজের মাধ্যমে এলাকায় নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন। প্রচারণায় তিনি সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, কৃষক, দিনমজুর এবং প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করে ভিন্নধর্মী চমক দেখিয়েছেন। তার সমর্থকদের দাবি, দিরাই-শাল্লার দীর্ঘদিনের অবহেলিত অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য একজন মেধাবী ও তরুণ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়—তারা কি দলের প্রতীক দেখে ভোট দেবেন, নাকি প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দেবেন? দিরাই ও শাল্লার হাট-বাজার থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সবখানেই এখন নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই ঘিরে উত্তাপ ততটাই বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জয় হবে নাকি তারুণ্যের জয়গান শোনা যাবে, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের বাসিন্দারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব অর্থনীতিতে সেমিকন্ডাক্টরের রাজত্ব এবং বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা

সুনামগঞ্জ-২ আসনে ভোটের লড়াই: অভিজ্ঞ বনাম তারুণ্যের দ্বৈরথে সরগরম দিরাই-শাল্লা

আপডেট সময় : ০৩:২৩:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই এই জনপদে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পথসভা, উঠান বৈঠক আর গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর স্বপ্নের কথা জানাচ্ছেন তারা। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এবার প্রার্থীদের পরিবারের সদস্যদেরও কোমর বেঁধে মাঠে নামতে দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে এবার প্রবীণ ও নবীনের এক আকর্ষণীয় লড়াই প্রত্যক্ষ করছেন স্থানীয়রা। বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর বিপরীতে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ১০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী শিশির মনির। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের এই লড়াইকে কেন্দ্র করে দিরাই ও শাল্লার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচনী মাঠ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রচারের ধরনে এবার এসেছে ভিন্নতা। পরিবেশ রক্ষায় কাগজের পোস্টারের চেয়ে ডিজিটাল প্রচারণায় বেশি জোর দিচ্ছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে জনপদ। তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রার্থীরা গ্রহণ করছেন নানা সৃজনশীল কৌশল।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দীন চৌধুরী দুইবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে চষে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, প্রবীণ এই নেতা দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন, যা তাকে নির্বাচনী দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। তার সমর্থকরা মনে করেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং অভিভাবক হিসেবে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ ভোটাররা তাকেই বেছে নেবেন।

অন্যদিকে, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী শিশির মনির আধুনিক ও উন্নয়নমুখী প্রচারণার মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। পেশায় আইনজীবী শিশির মনির ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব উপস্থিতির পাশাপাশি বিভিন্ন জনহিতকর কাজের মাধ্যমে এলাকায় নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন। প্রচারণায় তিনি সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, কৃষক, দিনমজুর এবং প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করে ভিন্নধর্মী চমক দেখিয়েছেন। তার সমর্থকদের দাবি, দিরাই-শাল্লার দীর্ঘদিনের অবহেলিত অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য একজন মেধাবী ও তরুণ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়—তারা কি দলের প্রতীক দেখে ভোট দেবেন, নাকি প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দেবেন? দিরাই ও শাল্লার হাট-বাজার থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সবখানেই এখন নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই ঘিরে উত্তাপ ততটাই বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জয় হবে নাকি তারুণ্যের জয়গান শোনা যাবে, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের বাসিন্দারা।