ঢাকা ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভা: দেশের নিরাপত্তা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. নাজিম উদ্দীন মোল্লার সমর্থনে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিতাস উপজেলার গাজীপুর খান মডেল সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দেশের নিরাপত্তা, নারীর সম্মান এবং রাজনৈতিক দুর্নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, যারা দেশের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করতে চায় এবং দুর্নীতির মাধ্যমে জনজীবন বিপর্যস্ত করে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশের মা-বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। যারা এই মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত হানতে চায়, তাদের হাতে রাষ্ট্র ও সমাজ কোনোটাই নিরাপদ নয়। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত। তাদের বিশ্বাস, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই জোটই পারে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ উপহার দিতে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে স্থানীয় রাজনীতির নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার একজন চিহ্নিত ‘বালু খেকো’ এবং ‘ভণ্ড শিক্ষক’ স্থানীয় রাজনীতিকে কলুষিত করছেন। আব্দুল্লাহ দাবি করেন, বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই তাকে ফোন করে এই ‘বালু খেকো’ ও ‘কমিটি বাণিজ্যকারী’ নেতার হাত থেকে মুক্তি চেয়েছেন, যিনি দলটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, এই নেতা মেঘনার বালু বিক্রি করে নিজের সংসার চালান এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের অর্থে পরিচালিত হয়। তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, মানুষ ১১ দলীয় জোটকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে এবং তাদের সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রদানের সুযোগ করে দিতে হবে, যাতে জোট বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মো. নাজিম উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। তিতাস উপজেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার শামীম সরকার বিজ্ঞ জনসভা সঞ্চালনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এটিএম মাসুম, কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের টিম সদস্য আব্দুস সাত্তার, জামায়াত কুমিল্লা উত্তর জেলার আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন, নায়েবে আমীর অধ্যাপক আলমগীর সরকার, জেলা সেক্রেটারি সাইফুল্লাহ ইসলাম শহিদ, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান বাহালুল, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি লোকমান হাকিম, অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, হোমনা উপজেলা শাখা আমীর কাজী সাইদুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তিতাস উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক সাঈদ আহমেদ সরকার, তিতাস উপজেলা শাখা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি মো. সালাহউদ্দিন সরকার এবং তিতাস উপজেলা ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সমন্বয়ক সাঈদ আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহের ফুলপুরে সংস্কারের অভাবে বিধ্বস্ত সড়ক যোগাযোগ, জনদুর্ভোগ চরমে

১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভা: দেশের নিরাপত্তা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান

আপডেট সময় : ০৮:২৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. নাজিম উদ্দীন মোল্লার সমর্থনে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিতাস উপজেলার গাজীপুর খান মডেল সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দেশের নিরাপত্তা, নারীর সম্মান এবং রাজনৈতিক দুর্নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, যারা দেশের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করতে চায় এবং দুর্নীতির মাধ্যমে জনজীবন বিপর্যস্ত করে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশের মা-বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। যারা এই মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত হানতে চায়, তাদের হাতে রাষ্ট্র ও সমাজ কোনোটাই নিরাপদ নয়। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত। তাদের বিশ্বাস, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই জোটই পারে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ উপহার দিতে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে স্থানীয় রাজনীতির নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার একজন চিহ্নিত ‘বালু খেকো’ এবং ‘ভণ্ড শিক্ষক’ স্থানীয় রাজনীতিকে কলুষিত করছেন। আব্দুল্লাহ দাবি করেন, বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই তাকে ফোন করে এই ‘বালু খেকো’ ও ‘কমিটি বাণিজ্যকারী’ নেতার হাত থেকে মুক্তি চেয়েছেন, যিনি দলটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, এই নেতা মেঘনার বালু বিক্রি করে নিজের সংসার চালান এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের অর্থে পরিচালিত হয়। তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, মানুষ ১১ দলীয় জোটকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে এবং তাদের সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রদানের সুযোগ করে দিতে হবে, যাতে জোট বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মো. নাজিম উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। তিতাস উপজেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার শামীম সরকার বিজ্ঞ জনসভা সঞ্চালনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এটিএম মাসুম, কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের টিম সদস্য আব্দুস সাত্তার, জামায়াত কুমিল্লা উত্তর জেলার আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন, নায়েবে আমীর অধ্যাপক আলমগীর সরকার, জেলা সেক্রেটারি সাইফুল্লাহ ইসলাম শহিদ, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান বাহালুল, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি লোকমান হাকিম, অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, হোমনা উপজেলা শাখা আমীর কাজী সাইদুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তিতাস উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক সাঈদ আহমেদ সরকার, তিতাস উপজেলা শাখা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি মো. সালাহউদ্দিন সরকার এবং তিতাস উপজেলা ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সমন্বয়ক সাঈদ আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।