বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নারীদের বিষয়ে জামায়াত ইসলামীর আমিরের আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে দলটিকে ভোট না দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট বাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
সভায় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ মোবাইল ফোনে উপস্থিত সকলের সামনে তুলে ধরেন। ওই সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মেয়েদের বাইরে যাওয়া মানে, মেয়েদেরকে আস্তে আস্তে বেশ্যাবৃত্তিতে ফেলে দেওয়া।” এমন মানসিকতার একটি দলকে ভোট না দিতে তিনি মা-বোনসহ সকল ভোটারের প্রতি অনুরোধ জানান।
বিএনপি নেতা টুকু বলেন, আজকের দিনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে উপার্জন না করলে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সমাজে নারীরা ঘরের বাইরে মিল, কারখানা, মাঠে এমনকি মাটি কাটার মতো কাজেও শ্রম দিচ্ছেন। অথচ জামায়াত এই মহিলাদের ঘরে ফিরিয়ে নিতে চায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা নারীদের কর্মসংস্থানকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে, তাদের কি ভোট দেওয়া উচিত?
উপস্থিত মা-বোনদের উদ্দেশে টুকু বলেন, “আপনারা যদি নিজের পায়ে নিজে কুড়াল দেন, তাহলে আমার কিছু করার নেই। দয়া করে জামায়াতকে ভোট দিয়েন না।” তিনি আরও বলেন, “আমি মিটিং করে আপনাদের কাছে ভোট চাচ্ছি, আপনারা আমার হাতকে শক্ত করবেন। তাহলে তারেক রহমানের হাত শক্ত হবে এবং তারেক রহমান এদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। উন্নয়নের জন্য কাকে দরকার, সেই হিসাব করে ভোট দেবেন।”
ক্ষমতাসীন দলের কঠোর সমালোচনা করে ইকবাল হাসান টুকু অভিযোগ করেন, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা গত ১৭ বছর ধরে মাঠে আন্দোলন করছে। এর জন্য তাদের জেল, জুলুম, অত্যাচারসহ নানা নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জেল-জুলুম খেটেও কারো কাছে মাথা নত করেননি এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু বরণ করেছেন। তার জানাজায় এত মানুষ হয়েছিল যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস, কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান ফেরদৌস, সাধারণ সম্পাদক রেজাতে রাব্বি উথান, ভদ্রঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মির্জা সামাদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হায়দার আলী প্রমুখ।
রিপোর্টারের নাম 
























