আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের (সিমিট) একজন বিশিষ্ট গবেষক, কৃষিবিদ মো. শহীদুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তীতে তাঁর লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। এই অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পটুয়াখালীর মহিপুরে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় মহিপুরের খাপড়াভাঙ্গা সেতুর উপর এলাকাবাসীর আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে নিহত কৃষিবিদের পরিবার, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহতের বাবা আলহাজ্ব মো. মতিউর রহমান, মহিপুর এসআরওএসবি সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ফরিদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হাওলাদার, থানা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি হাফেজ মো. মিল্লাত, জামায়াতে ইসলামীর সদর ইউনিয়ন আমির তোফাজ্জেল হোসাইন সিপাহী, কমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাইয়ুম তানিম এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন মেধাবী কৃষিবিদ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষকের এভাবে নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তীতে তাঁর লাশ উদ্ধার কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। এই ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচন করা জরুরি। তাঁরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান, অতিসত্বর প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, কৃষিবিদ শহীদুল ইসলামের আকস্মিক মৃত্যু তাঁর পরিবারকে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মতিউর রহমান শিবচর হাইওয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, কৃষিবিদ শহীদুল ইসলামের মৃত্যু সংক্রান্ত একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে চলছে এবং যত দ্রুত সম্ভব দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, কৃষিবিদ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম গত ২১ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান সেদিন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের একটি এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকেই তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে, গত ২৩ জানুয়ারি বিকেলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মহাসড়কের পাশ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের তৃতীয় ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম পরিবারসহ বরিশালে বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সেরাজপুর গ্রামে।
রিপোর্টারের নাম 
























