ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) হস্তান্তর প্রক্রিয়া: চুক্তি সম্পাদন ও শ্রমিকদের কর্মবিরতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। আজ রোববার (তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, তবে মূল আর্টিকেলের তথ্য অনুযায়ী) ঢাকায় মন্ত্রণালয় ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এই চুক্তির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। জানা গেছে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বন্দরের বিএনপি-সমর্থিত শ্রমিক-কর্মচারীরা বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এই মতবিরোধের জেরে উভয় পক্ষই তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে গতকাল শনিবার সকাল থেকে বন্দরের ইয়ার্ডে কাজ বন্ধ রেখেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর বিপরীতে, বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত এবং আদালতের রায় অমান্য করে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী শ্রমিক-কর্মচারীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে শুরু করেছে।

বন্দর সূত্রমতে, এনসিটি বিদেশিদের হাতে হস্তান্তরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। এই লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি দেশের অন্যতম লাভজনক টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরই এই টার্মিনালের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গত বছর রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব অর্জিত হয়েছে। আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগ, লাভজনক এই টার্মিনালটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে রাষ্ট্র বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে। এছাড়া, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও জাতীয় নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্বমানের টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বন্দরের কর্মক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে অর্জিত ভাড়ার অর্থ জাতীয় স্বার্থকে অক্ষুণ্ণ রাখতে সহায়ক হবে।

বন্দরে চলমান আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ নুরুল্লাহ বাহার জানিয়েছেন, এনসিটি বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল থেকে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বন্দরের সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা শান্তিপূর্ণভাবে এই দেশবিরোধী উদ্যোগের প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বন্দরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও পরিচালক প্রশাসন ওমর ফারুখ বলেছেন, চুক্তির বিষয়টি পিপিপি অথরিটি ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা তদারকি করছেন। তিনি আরও জানান, একটি পক্ষ সরকারি সিদ্ধান্তকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বন্দরকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে বাধা দেবে না। গতকাল থেকে যারা সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এছাড়া, তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চার কর্মচারীর বদলি-পদায়ন:

শ্রমিকদের টানা ধর্মঘটের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) বন্দরের চার কর্মচারীকে বদলি-পদায়নের আদেশ জারি করেছে। গতকাল শনিবার বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পারসোনেল অফিসারের দপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। বদলি হওয়া চার কর্মচারী হলেন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির, নৌ বিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার (প্রথম শ্রেণি) মো. ইব্রাহিম খোকন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের ব্যয় মূলধন শাখার উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম এবং প্রকৌশল বিভাগের মো. ফরিদুর রহমান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) হস্তান্তর প্রক্রিয়া: চুক্তি সম্পাদন ও শ্রমিকদের কর্মবিরতি

আপডেট সময় : ০৫:০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। আজ রোববার (তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, তবে মূল আর্টিকেলের তথ্য অনুযায়ী) ঢাকায় মন্ত্রণালয় ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এই চুক্তির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। জানা গেছে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বন্দরের বিএনপি-সমর্থিত শ্রমিক-কর্মচারীরা বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এই মতবিরোধের জেরে উভয় পক্ষই তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে গতকাল শনিবার সকাল থেকে বন্দরের ইয়ার্ডে কাজ বন্ধ রেখেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর বিপরীতে, বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত এবং আদালতের রায় অমান্য করে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী শ্রমিক-কর্মচারীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে শুরু করেছে।

বন্দর সূত্রমতে, এনসিটি বিদেশিদের হাতে হস্তান্তরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। এই লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি দেশের অন্যতম লাভজনক টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরই এই টার্মিনালের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গত বছর রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব অর্জিত হয়েছে। আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগ, লাভজনক এই টার্মিনালটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে রাষ্ট্র বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে। এছাড়া, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও জাতীয় নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্বমানের টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বন্দরের কর্মক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে অর্জিত ভাড়ার অর্থ জাতীয় স্বার্থকে অক্ষুণ্ণ রাখতে সহায়ক হবে।

বন্দরে চলমান আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ নুরুল্লাহ বাহার জানিয়েছেন, এনসিটি বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল থেকে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বন্দরের সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা শান্তিপূর্ণভাবে এই দেশবিরোধী উদ্যোগের প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বন্দরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও পরিচালক প্রশাসন ওমর ফারুখ বলেছেন, চুক্তির বিষয়টি পিপিপি অথরিটি ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা তদারকি করছেন। তিনি আরও জানান, একটি পক্ষ সরকারি সিদ্ধান্তকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বন্দরকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে বাধা দেবে না। গতকাল থেকে যারা সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এছাড়া, তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চার কর্মচারীর বদলি-পদায়ন:

শ্রমিকদের টানা ধর্মঘটের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) বন্দরের চার কর্মচারীকে বদলি-পদায়নের আদেশ জারি করেছে। গতকাল শনিবার বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পারসোনেল অফিসারের দপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। বদলি হওয়া চার কর্মচারী হলেন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির, নৌ বিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার (প্রথম শ্রেণি) মো. ইব্রাহিম খোকন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের ব্যয় মূলধন শাখার উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম এবং প্রকৌশল বিভাগের মো. ফরিদুর রহমান।