ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

চৌদ্দগ্রামে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আহত ১০, এলাকায় উত্তেজনা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের জনসভা শেষে ফেরার পথে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছেন।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমিরের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন দলটির নেতাকর্মীরা। পথে হাটবাইর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সহিংস রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন—উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী, উপজেলা দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি রিফাত সানি, জামায়াত নেতা রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল ও কাজী রাসেল। আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে ফেরার পথে বিএনপির চিহ্নিত কিছু লোক অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।”

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী জানান, “স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে আমরা সেখানে গেলে পুনরায় আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে আমি এবং আমার গাড়িচালকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছি।”

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানান, ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী

চৌদ্দগ্রামে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আহত ১০, এলাকায় উত্তেজনা

আপডেট সময় : ১১:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের জনসভা শেষে ফেরার পথে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছেন।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমিরের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন দলটির নেতাকর্মীরা। পথে হাটবাইর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সহিংস রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন—উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী, উপজেলা দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি রিফাত সানি, জামায়াত নেতা রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল ও কাজী রাসেল। আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে ফেরার পথে বিএনপির চিহ্নিত কিছু লোক অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।”

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী জানান, “স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে আমরা সেখানে গেলে পুনরায় আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে আমি এবং আমার গাড়িচালকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছি।”

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানান, ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।