জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার মধ্যে দুটি মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় বান্দরবান পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অমল কান্তি দাশকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অমল কান্তি দাশ পূর্বে একাধিক মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুটি মামলায় তার আবেদন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আলমগীর চৌধুরী জানান, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বান্দরবান সদর থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে অমল কান্তি দাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাগুলোর এজাহারে তাকে যথাক্রমে ৪ ও ৯ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বান্দরবান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ গুলশান এলাকার বাসিন্দা এবং মানিক চন্দ্র দাশের ছেলে। তবে, একই ঘটনায় দায়ের হওয়া বান্দরবান সদর থানার মামলা নং-০৭ (জি.আর-৯৮/২০২৪) এবং মামলা নং-১০ (জি.আর-১০১/২০২৪)-এ আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন বলেও জানান পিপি।
আদালতের নির্দেশের পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অমল কান্তি দাশকে বান্দরবান জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, অমল কান্তি দাশের সম্পদ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরবর্তী সময়ে তিনি বিপুল পরিমাণ জমি, ভবনসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব সম্পদের উৎস এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গত বছরের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয়দের একাংশ এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সম্পদের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 



















