ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপার গভীরে লুকানো দুই পৃথিবীর সমান মহাসাগর: প্রাণের সন্ধান নতুন মোড়

বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপার বরফাচ্ছাদিত পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর সকল মহাসাগরের সম্মিলিত পানির পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ পরিমাণ লবণাক্ত জল থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। নাসার অত্যাধুনিক জুনো মহাকাশযানের সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। মাত্র ৩,১২০ কিলোমিটার ব্যাসের ইউরোপা পৃথিবীর চাঁদের চেয়েও ছোট হলেও, এর বরফের স্তর ভেদ করে গেলে প্রায় ৬০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গভীরতার এক বিশাল মহাসাগরের সন্ধান মিলতে পারে। এই কারণেই সৌরজগতের মধ্যে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাব্য আবাসস্থল হিসেবে ইউরোপা দীর্ঘকাল ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ইউরোপার বরফের স্তরের পুরুত্ব নির্ণয় করা হয়েছে নাসার জুনো মহাকাশযানের ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের একটি মহাজাগতিক উড্ডয়নের মাধ্যমে। মহাকাশযানটি ইউরোপার মাত্র ৩৬০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় এর মাইক্রোওয়েভ রেডিওমিটার (এমডব্লিউআর) যন্ত্রটি বরফস্তরের তাপীয় বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মহাকাশযানটির পর্যবেক্ষণকৃত অঞ্চলে বরফস্তরের গড় পুরুত্ব প্রায় ২৯ কিলোমিটার। তবে, বিভিন্ন অঞ্চলে এই পুরুত্ব কমবেশি হতে পারে।

ইউরোপার গভীরে বিশাল জলরাশি থাকা সত্ত্বেও সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা কতটা, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, জীবনের জন্য কেবল পানির উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন রাসায়নিক শক্তি, অত্যাবশ্যকীয় জৈব উপাদান এবং বরফাচ্ছাদিত পৃষ্ঠ ও গভীর মহাসাগরের মধ্যে বিভিন্ন উপাদানের আদান-প্রদান। নতুন গবেষণা বলছে, যদি বরফস্তর সত্যিই এত পুরু হয়, তবে সমুদ্র ও পৃষ্ঠের মধ্যে রাসায়নিক উপাদান পরিবহন আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। এটি ইউরোপায় প্রাণের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে না দিলেও, বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে।

এই রহস্য উদ্ঘাটনে নাসার ইউরোপা ক্লিপার মহাকাশযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং ২০৩০ সালের এপ্রিলে বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই মহাকাশযানটি ইউরোপার চারপাশে প্রায় ৫০টি অভিযান পরিচালনা করবে। রাডার, ক্যামেরা, স্পেকট্রোমিটার এবং চৌম্বকীয় পরিমাপকসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এটি বরফস্তরের গঠন, ভূতত্ত্ব, মহাসাগরের বৈশিষ্ট্য এবং প্রাণের উপযোগী পরিবেশের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসন ও ভিন্নমত দমনের অভিযোগ

বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপার গভীরে লুকানো দুই পৃথিবীর সমান মহাসাগর: প্রাণের সন্ধান নতুন মোড়

আপডেট সময় : ১০:৪১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপার বরফাচ্ছাদিত পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর সকল মহাসাগরের সম্মিলিত পানির পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ পরিমাণ লবণাক্ত জল থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। নাসার অত্যাধুনিক জুনো মহাকাশযানের সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। মাত্র ৩,১২০ কিলোমিটার ব্যাসের ইউরোপা পৃথিবীর চাঁদের চেয়েও ছোট হলেও, এর বরফের স্তর ভেদ করে গেলে প্রায় ৬০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গভীরতার এক বিশাল মহাসাগরের সন্ধান মিলতে পারে। এই কারণেই সৌরজগতের মধ্যে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাব্য আবাসস্থল হিসেবে ইউরোপা দীর্ঘকাল ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ইউরোপার বরফের স্তরের পুরুত্ব নির্ণয় করা হয়েছে নাসার জুনো মহাকাশযানের ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের একটি মহাজাগতিক উড্ডয়নের মাধ্যমে। মহাকাশযানটি ইউরোপার মাত্র ৩৬০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় এর মাইক্রোওয়েভ রেডিওমিটার (এমডব্লিউআর) যন্ত্রটি বরফস্তরের তাপীয় বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মহাকাশযানটির পর্যবেক্ষণকৃত অঞ্চলে বরফস্তরের গড় পুরুত্ব প্রায় ২৯ কিলোমিটার। তবে, বিভিন্ন অঞ্চলে এই পুরুত্ব কমবেশি হতে পারে।

ইউরোপার গভীরে বিশাল জলরাশি থাকা সত্ত্বেও সেখানে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা কতটা, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, জীবনের জন্য কেবল পানির উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন রাসায়নিক শক্তি, অত্যাবশ্যকীয় জৈব উপাদান এবং বরফাচ্ছাদিত পৃষ্ঠ ও গভীর মহাসাগরের মধ্যে বিভিন্ন উপাদানের আদান-প্রদান। নতুন গবেষণা বলছে, যদি বরফস্তর সত্যিই এত পুরু হয়, তবে সমুদ্র ও পৃষ্ঠের মধ্যে রাসায়নিক উপাদান পরিবহন আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। এটি ইউরোপায় প্রাণের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে না দিলেও, বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে।

এই রহস্য উদ্ঘাটনে নাসার ইউরোপা ক্লিপার মহাকাশযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং ২০৩০ সালের এপ্রিলে বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই মহাকাশযানটি ইউরোপার চারপাশে প্রায় ৫০টি অভিযান পরিচালনা করবে। রাডার, ক্যামেরা, স্পেকট্রোমিটার এবং চৌম্বকীয় পরিমাপকসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এটি বরফস্তরের গঠন, ভূতত্ত্ব, মহাসাগরের বৈশিষ্ট্য এবং প্রাণের উপযোগী পরিবেশের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে।