ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

রানা প্লাজা তহবিলের ১২৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করলো ভুক্তভোগী সংগঠন

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আহত ও নিহত শ্রমিকদের জন্য গঠিত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের ১২৭ কোটি টাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে রানা প্লাজা সার্ভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এ সময় তিন শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দুর্দশার কথা তুলে ধরতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রানা প্লাজা সার্ভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। এ সময় সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান হৃদয় এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ওহিদুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার এক দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা এখনও পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। অর্থাভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

তারা আরও দাবি করেন, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের নামে এখনও বিদেশে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, কিন্তু সেই অর্থ প্রকৃত ভুক্তভোগীদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। এমন আচরণকে চরম অন্যায় ও শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেন তারা। একই সাথে, রানা প্লাজা অ্যাম্বাসেডর ও শ্রমিক নেত্রী ইয়াসমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়। নেতারা বলেন, এই মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং শ্রমিক আন্দোলন দমনের একটি অপচেষ্টা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে রানা প্লাজা সার্ভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন ছয় দফা দাবি পেশ করে। দাবিগুলো হলো:
১. ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের নামে বিদেশে সকল প্রকার অর্থ সংগ্রহ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।
২. রানা প্লাজার সকল ভুক্তভোগী ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে পূর্ণ ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. আহত ও পঙ্গু শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, পুনর্বাসন, বাসস্থান ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
৪. বিদেশ থেকে সংগৃহীত সকল অর্থের সম্পূর্ণ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
৫. রানা প্লাজা অ্যাম্বাসেডর ইয়াসমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
৬. ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো তহবিল, প্রকল্প বা পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণযোগ্য নয়।

নেতারা দৃঢ়ভাবে বলেন, রানা প্লাজার ভুক্তভোগীরা কোনো দয়া নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার চান। তারা সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সাথে, গণমাধ্যমের প্রতি তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর দেশ ও বিশ্বের সামনে তুলে ধরার অনুরোধ জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা ও শিল্প খাতের দূরত্ব: দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বড় বাধা

রানা প্লাজা তহবিলের ১২৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করলো ভুক্তভোগী সংগঠন

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আহত ও নিহত শ্রমিকদের জন্য গঠিত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের ১২৭ কোটি টাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে রানা প্লাজা সার্ভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এ সময় তিন শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দুর্দশার কথা তুলে ধরতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রানা প্লাজা সার্ভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। এ সময় সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান হৃদয় এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ওহিদুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার এক দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা এখনও পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। অর্থাভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

তারা আরও দাবি করেন, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের নামে এখনও বিদেশে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, কিন্তু সেই অর্থ প্রকৃত ভুক্তভোগীদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। এমন আচরণকে চরম অন্যায় ও শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেন তারা। একই সাথে, রানা প্লাজা অ্যাম্বাসেডর ও শ্রমিক নেত্রী ইয়াসমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়। নেতারা বলেন, এই মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং শ্রমিক আন্দোলন দমনের একটি অপচেষ্টা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে রানা প্লাজা সার্ভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন ছয় দফা দাবি পেশ করে। দাবিগুলো হলো:
১. ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের নামে বিদেশে সকল প্রকার অর্থ সংগ্রহ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।
২. রানা প্লাজার সকল ভুক্তভোগী ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে পূর্ণ ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. আহত ও পঙ্গু শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, পুনর্বাসন, বাসস্থান ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
৪. বিদেশ থেকে সংগৃহীত সকল অর্থের সম্পূর্ণ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
৫. রানা প্লাজা অ্যাম্বাসেডর ইয়াসমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
৬. ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো তহবিল, প্রকল্প বা পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণযোগ্য নয়।

নেতারা দৃঢ়ভাবে বলেন, রানা প্লাজার ভুক্তভোগীরা কোনো দয়া নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার চান। তারা সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সাথে, গণমাধ্যমের প্রতি তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর দেশ ও বিশ্বের সামনে তুলে ধরার অনুরোধ জানান।