ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা, নাগরিক অধিকারের সংকোচন এবং অংশগ্রহণহীন নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর দেশ এখন এক নতুন সূচনার অপেক্ষায়। একটি বৈষম্যহীন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এখন জনমনে প্রবল। এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের এক কঠিন পরীক্ষা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনকে ঘিরে জনমানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধী মত দমনের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি সত্যিকারের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। ভোটারদের মধ্যে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরই নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা।

নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থান বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা সংশয় ও প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রবাসে অবস্থান মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বিগত দেড় বছরে বিএনপি তাদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে ব্যাপক তৎপরতা দেখিয়েছে।

তবে রাজনীতির পটপরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে বিএনপির সামনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তারের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ড দলের জনসমর্থন ও নৈতিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।

এই প্রেক্ষাপটে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইতোমধ্যে প্রায় সাত হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে পরিচালিত এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ রাজনৈতিক মহলে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এর মাধ্যমে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং একটি জনবান্ধব রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।

সার্বিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে, তাতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন এবং দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কারই হবে মূল চাবিকাঠি। নাগরিক সমাজ ও সাধারণ ভোটাররা এখন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত জনম্যান্ডেট প্রতিফলিত হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ১০:১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা, নাগরিক অধিকারের সংকোচন এবং অংশগ্রহণহীন নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর দেশ এখন এক নতুন সূচনার অপেক্ষায়। একটি বৈষম্যহীন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এখন জনমনে প্রবল। এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের এক কঠিন পরীক্ষা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনকে ঘিরে জনমানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধী মত দমনের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি সত্যিকারের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। ভোটারদের মধ্যে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরই নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা।

নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থান বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা সংশয় ও প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রবাসে অবস্থান মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বিগত দেড় বছরে বিএনপি তাদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে ব্যাপক তৎপরতা দেখিয়েছে।

তবে রাজনীতির পটপরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে বিএনপির সামনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তারের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ড দলের জনসমর্থন ও নৈতিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।

এই প্রেক্ষাপটে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইতোমধ্যে প্রায় সাত হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে পরিচালিত এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ রাজনৈতিক মহলে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এর মাধ্যমে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং একটি জনবান্ধব রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।

সার্বিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে, তাতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন এবং দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কারই হবে মূল চাবিকাঠি। নাগরিক সমাজ ও সাধারণ ভোটাররা এখন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত জনম্যান্ডেট প্রতিফলিত হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।