দক্ষিণ এশিয়ার ফুটসাল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় পরে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা। প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়া সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দলটি গতকাল থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফেরে। বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার পর ছাদখোলা বাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটারে তাদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে সাফ ফুটসালজয়ীদের বহনকারী বিমান। সেখান থেকে এক বিশেষ ছাদখোলা বাসে করে তাদের নিয়ে আসা হয় হাতিরঝিলে। সাবিনা, মাসুরা, কৃষ্ণা রানিদের দেখতে সড়কের দু’পাশে ভিড় জমায় হাজারো উৎসুক জনতা। জাতীয় পতাকার রঙে সাজানো বাসে চড়ে বিজয়ী দলের সদস্যরা হাত নেড়ে মানুষের ভালোবাসার জবাব দেন।
হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটারে রাত ৯টায় শুরু হয় মূল সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। একে একে মঞ্চে আসেন মাতসুশিমা সুমাইয়া, কৃষ্ণা রানিসহ দলের অন্য সদস্যরা। সবার শেষে ট্রফি হাতে মঞ্চে এসে সেটি উঁচিয়ে ধরেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। এ সময় আতশবাজির ঝলমলে আলোতে হাতিরঝিলের আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে, আনন্দের ঢেউ আছড়ে পড়ে উপস্থিত সবার মাঝে। এই আনন্দঘন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করেন উপস্থিত আলোকচিত্রীরা।
দেশের মুখ উজ্জ্বল করে এসে উচ্ছ্বসিত সাবিনা খাতুন বলেন, ‘শত ব্যস্ততার মাঝে আমরা যখন দেশের সম্মান বয়ে নিয়ে আসি, আপনারা এভাবে পাশে থাকেন, সমর্থন দেন। এটি আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। এই অর্জন আপনাদের জন্যই, দেশের মানুষকে এটি উৎসর্গ করছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখি, ফুটবলের প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসা ও ভালো লাগা আছে যখন কোনো জয় হয়। এই উৎসাহ মেয়েদের খেলার আগ্রহ আরও বাড়ায়, জেতার আগ্রহ বাড়ায়। এই ট্রফিটা আপনাদের জন্যই, দেশের মানুষের জন্য।’
ফুটসাল দলের কোচ সাঈদ খোদারাহমি তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। বাফুফে সভাপতি এবং বিশেষ করে ফুটসালের চেয়ারম্যান ইমরানকে অভিনন্দন। মাত্র পাঁচ মাস হলো ফুটসাল শুরু হয়েছে, আমি মনে করি, এ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ধন্যবাদ। তোমাদের ওপর চাপ ছিল, তবে আজ রাতে তোমরা সবাই খুশি। আমি খুশি, তোমাদের পরিবারও খুশি।’
বাফুফে ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান জানান, মাত্র এক মাসের প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তিনি মনে করেন, ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারলে এশিয়া কাপও জেতা সম্ভব। ফুটসালের জন্য একটি মিনি স্টেডিয়ামের দাবি জানিয়ে ইমরানুর বলেন, ‘বাফুফে ও সরকার মিলে যদি আমাদের একটি মিনি স্টেডিয়াম দেয়, তাহলে এই মেয়েরা কী যে ভালো খেলে… আমরা ফুটসালের মানচিত্র বদলে দেব।’
সাবিনার নেতৃত্বে ফুটবলে দুইবার এবং ফুটসালে একবার সাফের শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নারী দলের অধিনায়ক সাবিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে সাফের আরেকটি ট্রফি এনে দেওয়ার জন্য ফুটসাল দলকে অভিনন্দন। আমি বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাতে চাই আমাদের অধিনায়ক সাবিনাকে। যেটা আমি আগেও বলেছিলাম, সাবিনা হবে আমাদের প্রথম অ্যাথলেট, পুরুষ হোক বা মহিলা, যে আমাদের দুটি ফরম্যাটে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এনে দেবে। আমি জানি না, এই রেকর্ড কে ভাঙবে। তবে যুগ যুগ ধরে আমাদের সাবিনার নাম নিতে হবে।’
মাত্র তিন মাস হয়েছে বাফুফে নতুন করে ফুটসালের কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই মধ্যে সাফ শিরোপা জয়ের মতো বড় সাফল্য এসেছে। তবে সবাইকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন ও কৃতিত্ব জানালেও চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য কোনো আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেননি বাফুফে সভাপতি।
রিপোর্টারের নাম 
























