রংপুর সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৩ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দল মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান সামু এবং বিদ্রোহী প্রার্থী রিটা রহমানের মধ্যকার এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ ও কাদা ছোড়াছুড়ির ফলে ভোটের মাঠে বিএনপির অবস্থান নড়বড়ে হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এই বিভক্তিকে পুঁজি করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই অনৈক্য অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল, বাসদের আব্দুল কুদ্দুস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী। বিএনপির দুই নেতার অন্তর্কোন্দলের সুযোগ নিয়ে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময় থেকেই মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু। পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে তিনি নিজেকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। তবে আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দলের ভেতর আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা মনোনয়নের দৌড়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত দলের হাইকমান্ড সব দিক বিবেচনা করে শামসুজ্জামান সামুকেই ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয়।
দলের এই সিদ্ধান্তের পরপরই বাঁধে বিপত্তি। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার ঘোষণা দেন রিটা রহমান। সংবাদ সম্মেলন করে তিনি সামুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তোলেন। একইসঙ্গে সামুর মনোনয়ন বাতিল করে তাকে দলীয় প্রার্থী করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান। রিটা রহমানের এমন অনড় অবস্থান ও আক্রমণাত্মক প্রচারণায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।
রংপুরের সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, বিএনপির মতো একটি বড় দলে এমন প্রকাশ্য বিভক্তি ভোটের ফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যেখানে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন, সেখানে বিএনপির দুই নেতার একে অপরকে ঘায়েল করার প্রবণতা দলটির জয়ের পথকে কঠিন করে তুলছে। শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে এখন পুরো রংপুরে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
রিপোর্টারের নাম 

























