আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণ এবং যেকোনো উসকানিমূলক পরিস্থিতি এড়িয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা ৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, বিজয় আমাদের দ্বারপ্রান্তে, তাই কোনো চক্রান্তের ফাঁদে পা না দিয়ে কয়েকদিন ধৈর্য ধরে থাকতে হবে।
বুধবার রাজধানীর ব্রাদার্স ক্লাব মাঠে ধানের শীষের পক্ষে এক গণমিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে গণমিছিলটি ব্রাদার্স ক্লাব মাঠের সামনে থেকে শুরু হয়ে ঢাকা ৮ আসনের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। রাতে তিনি মগবাজার সেঞ্চুরী আর্কেড এভিনিউ সোসাইটির ভোটারদের সঙ্গে নির্বাচনী আলোচনা, মতবিনিময় সভা ও গণসংযোগে অংশ নেবেন।
মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ১৭ বছর ধরে নির্বাচনের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছে। বিএনপির বহু নেতাকর্মী এই আন্দোলনে আত্মাহুতি দিয়েছেন, এমনকি অনেক সিনিয়র নেতাও শাহাদাত বরণ করেছেন। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, যা আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জন করেছি। অনেকেই বলেন, মাত্র সাত দিনের আন্দোলনে শেখ হাসিনাকে পরাস্ত করা হয়েছে, কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে, এই ১৭ বছরে দেশের জনগণ যে ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার বিনিময়েই আজকের গণতান্ত্রিক অধিকার আমরা ফিরে পেয়েছি।
তিনি দেশের মানুষের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জনগণের জন্য জীবন দিয়ে লড়াই করেছেন। সেই কথা স্মরণ করেই আমাদের আগামী দিনের পথ চলতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
মির্জা আব্বাস সতর্ক করে বলেন, আজকের নির্বাচন বানচাল করার জন্য কিছু চক্রান্ত চলছে। নির্বাচন থেকে জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিএনপি বহু নির্বাচনে অংশ নিলেও কখনো কোনো প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়নি। আমরা সবসময় উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করেছি। আজও আমাদের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত শান্ত ও নীরব ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, যে দলটির কোনো নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নেই, যারা জীবনে দেশের জনগণের জন্য কাজ করেনি, তারা বিএনপিকে অপদস্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের নিজেদের বলার মতো কিছু নেই। তারা শুধু বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলাকেই তাদের কাজ মনে করে। তাদের উদ্দেশ্য হলো দেশের জনগণকে চিরতরে উপেক্ষিত রাখা। তবে দেশের স্বার্থ রক্ষায় একমাত্র দল হলো বিএনপি।
নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, কোনো উস্কানিমূলক কথাবার্তা বা কাজে জড়াবেন না। বিজয় আমাদেরই হবে, ইনশাআল্লাহ। কয়েকদিন ধৈর্য ধরুন। নির্বাচনের পরে দেশের শান্তি বজায় রাখতে আমাদের এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি দেশের শান্তি বজায় রাখতে চায়। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষকে শান্তি এবং হাসি ফিরিয়ে দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঝগড়া বা ফ্যাসাদ করতে চায় না। আমরা দেশের মানুষকে শান্তি দিতে চাই। যারা চক্রান্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াতে পারি। তবে, এখন প্রমাণ দেখানোর সময় নয়। নির্বাচনের পরে দেশকে শান্ত রাখতে আমরা সকল চেষ্টা করব।
তিনি শেখ সাদীর কবিতার লাইন ‘বে-আদব বে-নসিব, বা-আদব বা-নসিব’ স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন, আজকের প্রজন্মকেও শ্রদ্ধা এবং আদব শিখতে হবে। আমি আমার সন্তান তুল্য যারা আজকে আমার সঙ্গে কথা বলেন, তাদের উদ্দেশ্যেই এই উপদেশমূলক কবিতার লাইন পাঠালাম। তিনি বলেন, ছোট বেলায় আমি সব দলকে সম্মান করেছি। আজও চাই, নেতাকর্মীরা শান্তি বজায় রাখুক। বিএনপির কর্মীরা সুশৃঙ্খল এবং চক্রান্তকারী নয়। দেশের মানুষকে শান্তি এবং স্বাচ্ছন্দ্য দিতে হলে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার।
রিপোর্টারের নাম 























