গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে এনসিপির নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির নেতা আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ১১ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কারিগরি কাজে প্রশিক্ষিত করার ব্যবস্থা করা হবে এবং তাদের আর কোনোভাবে বঞ্চিত হতে দেওয়া হবে না।
এনসিপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ তার বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই দুর্গ থেকে বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের একটি গণ-আন্দোলনে ১১ জন বীর শহীদ হয়েছিলেন। শুধু গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, হেফাজত ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বানে তারা সফল হয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন ইমামদের বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে এবং ১১ দলীয় ঐক্য জোট এই প্রস্তাবে সমর্থন জানায়। তিনি দ্রুত এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী আতাউল্লাহ সমাবেশে বলেন, আপনারা আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তুলেছেন এবং রাজনীতি করতে নিষেধ করেছেন, আমরা করিনি। কিন্তু যখন দেখলাম আমাদের বন্ধু, কৃষক, শ্রমিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে একের পর এক নির্বিচারে খুন, গুম ও হত্যা করা হচ্ছিল, তখন আমরা রাজনীতিতে আসতে বাধ্য হয়েছি। তিনি অভিযোগ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ পূর্ব অঞ্চলে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস দিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশ চলছে, অথচ তারা গ্যাস পাচ্ছেন না। তাদের চলাচলের একমাত্র পথ ট্রেন, কিন্তু পর্যাপ্ত ট্রেন বরাদ্দ নেই।
আতাউল্লাহ প্রতিশ্রুতি দেন, যদি তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন, তাহলে একটি আন্তঃনগর ট্রেন ও একটি লোকাল ট্রেন চালু করবেন। তিনি আরও বলেন, তিনি তার সর্বোচ্চ দিয়ে জনগণের অধিকার আদায় করবেন এবং তার বন্ধু ওসমান হাদির খুনিদের বিচার নিশ্চিত করবেন।
এনসিপি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এবং জেলা এনসিপির সদস্য মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় যুব শক্তির মুখ্য সংগঠক ফরহাদ সোহেল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এনসিপির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল হক প্রমুখ।
রিপোর্টারের নাম 
























