ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপি’র দাবি: সরকারে থাকাকালীন দুর্নীতি কমেছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দেশে দুর্নীতির হার ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বুধবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বর্তমানে ‘দুর্নীতির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ বিষয়ক পুরোনো এবং ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “জাতীয়ভাবে এটি প্রমাণিত যে বিএনপি সরকারে আসার পর দুর্নীতির হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি সরকার গঠনের সময় একটি প্রতিষ্ঠানের সূচকে বাংলাদেশের দুর্নীতির স্কোর ছিল ০.৪, যা পূর্ববর্তী শাসনকালের প্রতিফলন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং সুশাসনের ফলে এই স্কোর উন্নত হয় এবং ২০০৬ সালে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব ছাড়ার সময় এটি ২.০ তে উন্নীত হয়েছিল। তাই, যারা দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার পরিকল্পিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একটি রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে মাহদী আমিন বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সেই দলটি সরকারের অংশ ছিল এবং তাদের দুই মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যও ছিলেন। সরকারের অংশীদার থাকা অবস্থায় তখন এ বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি, কিন্তু এখন তারা নির্বাচনী মাঠে এসে এই ধরণের মিথ্যাচার করছে। তিনি এই ভূমিকাকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র আরও বলেন, ভোট চাইতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দলটি ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে, জান্নাতের প্রলোভন দেখাচ্ছে, কোরআন শরিফে শপথ করাচ্ছে এবং এমনকি বিকাশ নম্বরে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। তিনি বলেন, যারা নিজেরাই টাকা দিয়ে ভোটারদের ভোট কেনার চেষ্টা করছে, তাদের কাছ থেকে দুর্নীতির গল্প শোনা তাদের নিজেদের সততাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

একটি নির্বাচনী জনসভায় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, এই দুটি বিষয়ই ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুমোদিত এবং এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে। বিদ্যমান এই সিদ্ধান্তকে নতুন প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করে বগুড়াবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরীকে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কারণে একটি দলের নেতাকর্মীদের চাপে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান মাহদী আমিন। তিনি অবিলম্বে মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরীকে তার পদে পুনর্বহালের দাবি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাবিক নয়, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের দূত: নৌ প্রতিমন্ত্রী

বিএনপি’র দাবি: সরকারে থাকাকালীন দুর্নীতি কমেছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দেশে দুর্নীতির হার ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বুধবার গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বর্তমানে ‘দুর্নীতির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ বিষয়ক পুরোনো এবং ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “জাতীয়ভাবে এটি প্রমাণিত যে বিএনপি সরকারে আসার পর দুর্নীতির হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি সরকার গঠনের সময় একটি প্রতিষ্ঠানের সূচকে বাংলাদেশের দুর্নীতির স্কোর ছিল ০.৪, যা পূর্ববর্তী শাসনকালের প্রতিফলন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং সুশাসনের ফলে এই স্কোর উন্নত হয় এবং ২০০৬ সালে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব ছাড়ার সময় এটি ২.০ তে উন্নীত হয়েছিল। তাই, যারা দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার পরিকল্পিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একটি রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে মাহদী আমিন বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সেই দলটি সরকারের অংশ ছিল এবং তাদের দুই মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যও ছিলেন। সরকারের অংশীদার থাকা অবস্থায় তখন এ বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি, কিন্তু এখন তারা নির্বাচনী মাঠে এসে এই ধরণের মিথ্যাচার করছে। তিনি এই ভূমিকাকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র আরও বলেন, ভোট চাইতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দলটি ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে, জান্নাতের প্রলোভন দেখাচ্ছে, কোরআন শরিফে শপথ করাচ্ছে এবং এমনকি বিকাশ নম্বরে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। তিনি বলেন, যারা নিজেরাই টাকা দিয়ে ভোটারদের ভোট কেনার চেষ্টা করছে, তাদের কাছ থেকে দুর্নীতির গল্প শোনা তাদের নিজেদের সততাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

একটি নির্বাচনী জনসভায় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, এই দুটি বিষয়ই ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুমোদিত এবং এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে। বিদ্যমান এই সিদ্ধান্তকে নতুন প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করে বগুড়াবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরীকে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কারণে একটি দলের নেতাকর্মীদের চাপে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান মাহদী আমিন। তিনি অবিলম্বে মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরীকে তার পদে পুনর্বহালের দাবি জানান।