ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমজমাট লড়াই: জুনায়েদ আল হাবীব বনাম ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন) আসনের উপনির্বাচনী মাঠ এখন সরগরম। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে কথার লড়াই, চলছে প্রতীকী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব। তার প্রতীক খেজুর গাছ। অন্যদিকে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি লড়ছেন হাঁস প্রতীকে। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও রুমিন ফারহানা নিজেকে ‘গণমানুষের প্রার্থী’ দাবি করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই দুই প্রার্থীর মধ্যে চলছে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একে অপরের বিরুদ্ধে চলছে তির্যক মন্তব্য। সম্প্রতি, রুমিন ফারহানা জুনায়েদ আল হাবীবকে ‘রোহিঙ্গা প্রার্থী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে একটি বক্তব্য দেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর জবাবে জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা নই, আমাকে তারেক রহমান পাঠিয়েছেন।’ সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সরাইল সফর এই আসনের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। তিনি সভা-সমাবেশে জুনায়েদ আল হাবীবকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাকে বিজয়ী করতে আহ্বান জানান। এরপর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা জোট প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

ঐতিহাসিকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এই আসনে জয়লাভ করেন। ২০০১ সালে বিএনপি জোটের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আসনটি দখল করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া বিজয়ী হন। তবে, এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক না থাকায় ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কিছু ভোটার জানিয়েছেন, আসনটি জোটের জন্য ছেড়ে দেওয়ায় এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এবার বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী দেবে এমন আশা ছিল তাদের। কিন্তু তা না হওয়ায় তারা কিছুটা হতাশ। আশুগঞ্জের বাহাদুরপুর গ্রামের খাইরুল ইসলাম জানান, ধানের শীষ প্রতীক না থাকায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা জুনায়েদ আল হাবীবের পক্ষে কাজ করলেও তৃণমূলের অনেক কর্মী রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করছেন।

খোলাপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই প্রার্থীরই প্রচারণা চলছে। সাধারণ ভোটাররা দ্বিধাগ্রস্ত। একদিকে বিএনপি জোটের প্রার্থী, অন্যদিকে বিএনপির একসময়ের দাপুটে নেত্রী রুমিন ফারহানা। তাই ভোটের ফলাফল কী হবে তা আগে থেকে বলা কঠিন। সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের মোশাররফ হোসেন মনে করেন, আঞ্চলিকতার কারণে আগের নির্বাচনগুলোতে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি না থাকায় এবার ভাটি অঞ্চলের ভোটের ওপর জয়-পরাজয় নির্ভর করবে। তরুণ ভোটারদের যারা প্রভাবিত করতে পারবেন, তারাই জয়ী হবেন।

শাহবাজপুর এলাকার গৃহিণী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আগের দিনগুলোতে আমাদের এলাকার কোনো উন্নয়ন হয়নি। এবার মহিলারা আবেগ দিয়ে নয়, বিবেক দিয়ে চিন্তা করে ভোট দেবেন। তবে শুনছি রুমিন ফারহানার অবস্থা ভালো।’

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস পেশিশক্তি এবং কালো টাকার প্রভাব দেখায়। বড় রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো উপায়ে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী বড় দলের প্রার্থী নির্বাচনে যেকোনো কিছুই করতে পারেন। তাই তিনি নেতাকর্মী ও ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে। উঠান বৈঠক করার কারণে তাকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অথচ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচনি প্রচার শুরুর আগেই বড় বড় স্টেজ করে সমাবেশ করেছেন।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, তার পক্ষে যে গণজোয়ার উঠেছে, তা অনেকের ভয়ের কারণ। তিনি ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রত্যেককে যার যার কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য বলেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোনো পেশিশক্তি ভোট ডাকাতি করতে না পারলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। তিনি হাঁসকে শান্তির প্রতীক এবং ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, বিএনপি জোটের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব রুমিন ফারহানার বিভিন্ন সময়ের শঙ্কার কথাগুলোকে ‘কাল্পনিক, বানোয়াট, মিথ্যাচার এবং অতিরঞ্জিত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, অন্য কোনো প্রার্থী এমন শঙ্কার কথা বলছেন না, তাহলে তিনি কেন বারবার এসব বলছেন? তিনি মনে করেন, রুমিন ফারহানা কারো ইন্ধনে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি মিশন নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন।

জুনায়েদ আল হাবীব জানান, তিনি মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকসহ তার ভক্তরা গণজোয়ার তৈরি করছেন। তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে সরাইল-আশুগঞ্জের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং সবাই তাকে চেনেন। তিনি বলেন, আসনটি বিএনপি অধ্যুষিত হওয়ায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বিএনপি এবং তার দলের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বুধন্তী ইউনিয়নে তার একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ করেন, যা আচরণবিধি মেনেই করা হয়েছিল। তিনি প্রশাসনের এ ভূমিকার কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের আলেম-ওলামারা তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি আশাবাদী, নির্বাচনে বিএনপি জোটের খেজুর গাছের বিজয় সুনিশ্চিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাবিক নয়, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের দূত: নৌ প্রতিমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমজমাট লড়াই: জুনায়েদ আল হাবীব বনাম ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

আপডেট সময় : ০৯:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন) আসনের উপনির্বাচনী মাঠ এখন সরগরম। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে কথার লড়াই, চলছে প্রতীকী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব। তার প্রতীক খেজুর গাছ। অন্যদিকে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি লড়ছেন হাঁস প্রতীকে। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও রুমিন ফারহানা নিজেকে ‘গণমানুষের প্রার্থী’ দাবি করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই দুই প্রার্থীর মধ্যে চলছে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একে অপরের বিরুদ্ধে চলছে তির্যক মন্তব্য। সম্প্রতি, রুমিন ফারহানা জুনায়েদ আল হাবীবকে ‘রোহিঙ্গা প্রার্থী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে একটি বক্তব্য দেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর জবাবে জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা নই, আমাকে তারেক রহমান পাঠিয়েছেন।’ সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সরাইল সফর এই আসনের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। তিনি সভা-সমাবেশে জুনায়েদ আল হাবীবকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাকে বিজয়ী করতে আহ্বান জানান। এরপর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা জোট প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

ঐতিহাসিকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এই আসনে জয়লাভ করেন। ২০০১ সালে বিএনপি জোটের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আসনটি দখল করেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া বিজয়ী হন। তবে, এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক না থাকায় ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কিছু ভোটার জানিয়েছেন, আসনটি জোটের জন্য ছেড়ে দেওয়ায় এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এবার বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী দেবে এমন আশা ছিল তাদের। কিন্তু তা না হওয়ায় তারা কিছুটা হতাশ। আশুগঞ্জের বাহাদুরপুর গ্রামের খাইরুল ইসলাম জানান, ধানের শীষ প্রতীক না থাকায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা জুনায়েদ আল হাবীবের পক্ষে কাজ করলেও তৃণমূলের অনেক কর্মী রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করছেন।

খোলাপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই প্রার্থীরই প্রচারণা চলছে। সাধারণ ভোটাররা দ্বিধাগ্রস্ত। একদিকে বিএনপি জোটের প্রার্থী, অন্যদিকে বিএনপির একসময়ের দাপুটে নেত্রী রুমিন ফারহানা। তাই ভোটের ফলাফল কী হবে তা আগে থেকে বলা কঠিন। সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের মোশাররফ হোসেন মনে করেন, আঞ্চলিকতার কারণে আগের নির্বাচনগুলোতে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি না থাকায় এবার ভাটি অঞ্চলের ভোটের ওপর জয়-পরাজয় নির্ভর করবে। তরুণ ভোটারদের যারা প্রভাবিত করতে পারবেন, তারাই জয়ী হবেন।

শাহবাজপুর এলাকার গৃহিণী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আগের দিনগুলোতে আমাদের এলাকার কোনো উন্নয়ন হয়নি। এবার মহিলারা আবেগ দিয়ে নয়, বিবেক দিয়ে চিন্তা করে ভোট দেবেন। তবে শুনছি রুমিন ফারহানার অবস্থা ভালো।’

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস পেশিশক্তি এবং কালো টাকার প্রভাব দেখায়। বড় রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো উপায়ে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী বড় দলের প্রার্থী নির্বাচনে যেকোনো কিছুই করতে পারেন। তাই তিনি নেতাকর্মী ও ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে। উঠান বৈঠক করার কারণে তাকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অথচ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচনি প্রচার শুরুর আগেই বড় বড় স্টেজ করে সমাবেশ করেছেন।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, তার পক্ষে যে গণজোয়ার উঠেছে, তা অনেকের ভয়ের কারণ। তিনি ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রত্যেককে যার যার কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য বলেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোনো পেশিশক্তি ভোট ডাকাতি করতে না পারলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। তিনি হাঁসকে শান্তির প্রতীক এবং ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, বিএনপি জোটের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব রুমিন ফারহানার বিভিন্ন সময়ের শঙ্কার কথাগুলোকে ‘কাল্পনিক, বানোয়াট, মিথ্যাচার এবং অতিরঞ্জিত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, অন্য কোনো প্রার্থী এমন শঙ্কার কথা বলছেন না, তাহলে তিনি কেন বারবার এসব বলছেন? তিনি মনে করেন, রুমিন ফারহানা কারো ইন্ধনে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি মিশন নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন।

জুনায়েদ আল হাবীব জানান, তিনি মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকসহ তার ভক্তরা গণজোয়ার তৈরি করছেন। তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে সরাইল-আশুগঞ্জের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং সবাই তাকে চেনেন। তিনি বলেন, আসনটি বিএনপি অধ্যুষিত হওয়ায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বিএনপি এবং তার দলের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বুধন্তী ইউনিয়নে তার একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ করেন, যা আচরণবিধি মেনেই করা হয়েছিল। তিনি প্রশাসনের এ ভূমিকার কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের আলেম-ওলামারা তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি আশাবাদী, নির্বাচনে বিএনপি জোটের খেজুর গাছের বিজয় সুনিশ্চিত।