ময়মনসিংহ ও শেরপুর সীমান্তে পুশ-ইনের আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। সীমান্তজুড়ে বিজিবির সতর্কতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরদারি সত্ত্বেও একের পর এক অনুপ্রবেশ চেষ্টার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে সীমান্ত এলাকায়।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত দুই মাসে নাকুগাঁও, ডালু, কড়ইতলী, সূর্যপুর ও মুন্সিপাড়া সীমান্ত দিয়ে একাধিকবার বাংলাদেশে লোকজন ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিজিবির টহল ও কঠোর অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব যাচাই, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পুশ-ইনের মাধ্যমে এসব প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত লোকজন সীমান্তে ঠেলে দেওয়া সম্ভব হয়। ভারতের অভ্যন্তরে ‘অবৈধ অভিবাসী’ ইস্যু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পর এ প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া সীমান্ত বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পাহাড়ি জঙ্গল, ছড়া ও জনবিরল এলাকা ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, পুশ-ইনের শিকারদের মধ্যে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশি শ্রমিকের পাশাপাশি নারী, শিশু ও রোহিঙ্গাও রয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার নয়, মানবাধিকার ও মানবিক সংকটের প্রশ্নও হয়ে উঠছে।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। সন্দেহজনক কোনো চলাচল দেখলেই দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হচ্ছে। অনেক এলাকায় গ্রামবাসী রাত জেগেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, সীমান্তের দুই পাশেই সক্রিয় রয়েছে মানবপাচারকারী ও দালাল চক্র। এরা অবৈধ পারাপার, আশ্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত।
৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজিদ জানিয়েছেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ-ইন, মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও অপারেশনাল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত নজরদারি, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট দীর্ঘমেয়াদে আরও জটিল হতে পারে।
সীমান্তের পাহাড়, জঙ্গল ও জনবিরল করিডোরগুলো এখন শুধু ভৌগোলিক সীমারেখা নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার নতুন চ্যালেঞ্জের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।
রিপোর্টারের নাম 






















