ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ: ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির (প্লেজিয়ারিজম) অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুল হকের একজন মনোনীত প্রতিনিধি। এই কমিটি অভিযোগের বিস্তারিত খতিয়ে দেখবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় ড. রিদওয়ানুল হকের জমা দেওয়া দুটি গবেষণা প্রবন্ধে প্রায় শতভাগ মিল থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার পদোন্নতি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরবর্তীতে তা আর এগোয়নি।

গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রশাসন বিজনেস অনুষদের ডিনের কাছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ চায়। ডিন অভিযোগটিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মতামত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এই তদন্ত কমিটি গঠন করল।

এদিকে, ড. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ, সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষক বর্তমানে বিএনপি সরকারের আমলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে লবিং করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবহার করে এ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়ানডে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে টি-টোয়েন্টি মিশনে বাংলাদেশ: আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি টাইগাররা

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ: ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ০৭:১০:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির (প্লেজিয়ারিজম) অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুল হকের একজন মনোনীত প্রতিনিধি। এই কমিটি অভিযোগের বিস্তারিত খতিয়ে দেখবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় ড. রিদওয়ানুল হকের জমা দেওয়া দুটি গবেষণা প্রবন্ধে প্রায় শতভাগ মিল থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার পদোন্নতি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরবর্তীতে তা আর এগোয়নি।

গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রশাসন বিজনেস অনুষদের ডিনের কাছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ চায়। ডিন অভিযোগটিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মতামত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এই তদন্ত কমিটি গঠন করল।

এদিকে, ড. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ, সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষক বর্তমানে বিএনপি সরকারের আমলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে লবিং করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবহার করে এ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে।