দেশের অভ্যন্তরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে আলোচিত ও বিতর্কিত ৫৭ জন পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্তে সরকারের পক্ষ থেকে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এসব কর্মকর্তার সন্ধান পেতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এই ৫৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে বিরোধী দল দমনে এদের অনেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কেউ কেউ বেনজীর আহমেদের মতো অতি উৎসাহী হয়ে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর দমনপীড়ন এবং সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় তারা কর্মক্ষেত্রে আর ফেরেননি। এদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার, সাবেক স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রধান এবং সাবেক ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) প্রধানের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাবেক দুই আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং এ কে এম শহীদুল হক ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায় পাঁচ বছরের সাজা পেয়েছেন। এছাড়াও, অতিরিক্ত ডিআইজি মশিউর রহমান, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফী এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান ও মাজহারুল ইসলামসহ সাতজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সূত্রমতে, পলাতক অধিকাংশ পুলিশ সদস্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন, আবার কেউ দেশেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ আশা করছেন যে, দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা আবার পুলিশ সার্ভিসে যোগ দিতে পারবেন। তবে, সরকার ইতোমধ্যে এসব পলাতক পুলিশ সদস্যের বেতন বন্ধ করে দিয়েছে।
পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের দেশে ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি আলী হোসেন ফকির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজিপি গতকাল রাতে জানিয়েছেন যে, ‘পুলিশের ৫৭ সদস্য পলাতক রয়েছেন এবং তাদের নামে মামলাও বিদ্যমান। কেউ কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।’
রিপোর্টারের নাম 






















