ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর ইরান সংকটই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে চলা ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের পর, ইসরাইলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছে, যেখানে দৃশ্যত ইসরাইলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এর ফলে, ইসরাইলের রাজনীতিবিদদের কাছে দশক ধরে অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে বিবেচিত ইরান রাষ্ট্র টিকে আছে এবং হরমুজ প্রণালির উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে আগের চেয়েও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
লেবাননেও ইসরাইল এক নতুন বাস্তবতার সম্মুখীন। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর রকেট হামলা ঠেকাতে সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তা দাবি করলেও, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের আগে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরাইলের অভ্যন্তরে এই চুক্তি নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপন্থী এবং কট্টর ডানপন্থী উভয় পক্ষই এর সমালোচনা করছে। মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদ গাদি আইজেনকোট এটিকে ‘ব্যর্থ সরকারের হতাশাজনক পরিণতি’ বলে অভিহিত করেছেন এবং নেতানিয়াহুর পূর্ণ বিজয়ের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব চুক্তির মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, কট্টর ডানপন্থী সদস্যরা, যেমন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ, চুক্তিটিকে ‘বাজে চুক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার বিরোধিতা করেছেন।
নেতানিয়াহু বছরের পর বছর ধরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন এবং ইসরাইলে এই যুদ্ধকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। ফলে, এখন তিনি বুঝতে পারছেন যে এই সংঘাতের অবসান ঘটানো দেশের অভ্যন্তরে জনপ্রিয় নয়। প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার কথিত ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত’ থেকে নিজেকে যথাসম্ভব দূরে রাখতে চেষ্টা করছেন এবং যুদ্ধ পরিচালনায় নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমান অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস চালাচ্ছেন।
রিপোর্টারের নাম 




















