বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) রপ্তানি আয় ১৯.২৬ শতাংশ কমেছে। এই পতন খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পর ইইউ বাজারেও রপ্তানি হ্রাস পাওয়ায়। ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৪৫৯.১৬ কোটি ইউরো, যা গত বছরের একই সময়ের ৫৬৮.৭ কোটি ইউরোর তুলনায় প্রায় ১০৯ কোটি ইউরো কম।
একক মাস হিসেবে মার্চ মাসেও রপ্তানি আয় ১৯.২৪ শতাংশ কমে ১৭০ কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে, যেখানে গত বছর একই মাসে এটি ছিল ২১১ কোটি ইউরো। অর্থাৎ, শুধু মার্চ মাসেই রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৪১ কোটি ইউরো। এই তিন মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ২১০৮ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৬২ শতাংশ কম। পরিমাণেও তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে ৮.৩২ শতাংশ, অর্থাৎ ৩৬.২২ কোটি কেজি থেকে ৩৩.২ কোটি কেজিতে নেমে এসেছে।
এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দুটি হলো রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ৮.৩২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ১১.৯৩ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে ইইউ থেকে, তাই এই বাজারে এমন পতন দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতাও এই পতনের জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























