ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শুদ্ধি অভিযান: দুর্নীতির অভিযোগে পদচ্যুত কর্মকর্তা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) দুর্নীতি ও অদক্ষতা দমনে কঠোর ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করেছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। নিজ দলের কর্মীদেরও ছাড় দিচ্ছেন না তিনি। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ডিএসসিসির কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলের তত্ত্বাবধায়ক মো. আরিফ চৌধুরীকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে মূল কর্মস্থল অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (কেন্দ্রীয় পরিবহন পুল) পদে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা নিয়ম-শৃঙ্খলার বাইরে যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে, তাই সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরিফ চৌধুরীকে ১২তম গ্রেড থেকে নামিয়ে ১৫তম গ্রেডে পাঠানো হয়েছে। আরিফ ডিএসসিসির জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তৎকালীন প্রশাসককে চাপ দিয়ে কম্পিউটার অপারেটর থেকে এক লাফে কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলের পরিবহন তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। এরপর তিনি প্রাতিষ্ঠানিক নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

আদালতের রায়ে ডিএসসিসির মেয়র পদ ফিরে পান বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। কিন্তু তখন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়ার হস্তক্ষেপে মেয়র পদে বসতে ব্যর্থ হন ইশরাক হোসেন। এ নিয়ে দীর্ঘ ৪০ দিনের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চলে। একসময় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও সে সময় কোটি টাকা জ্বালানি খরচ বাবদ উত্তোলন করা হয়। এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে প্রাথমিক তদন্তে তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক আরিফের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়। সেই তেল কেলেঙ্কারির দায়ে এবার তাকে পদ হারাতে হলো।

জানা গেছে, যোগ্যতা না থাকলেও জোর জবরদস্তি করে ৫ আগস্টের পর পদ বাগিয়ে নেন আরিফ। বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর যোগ্যদের পদায়নে জোর দেন। তারই ধারাবাহিকতায় আরিফকে চার ধাপ নামিয়ে নিজ দপ্তরে ফেরত পাঠিয়েছেন।

ঈদুল আজহায় বর্জ্য বিভাগে চাহিদা মাফিক জ্বালানি তেল সরবরাহ না করায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দুজন কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন। তবে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না করে সেই জ্বালানি আত্মসাতের অভিযোগও আরিফের বিরুদ্ধে ছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়ানডে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে টি-টোয়েন্টি মিশনে বাংলাদেশ: আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি টাইগাররা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শুদ্ধি অভিযান: দুর্নীতির অভিযোগে পদচ্যুত কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ০৭:১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) দুর্নীতি ও অদক্ষতা দমনে কঠোর ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করেছেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। নিজ দলের কর্মীদেরও ছাড় দিচ্ছেন না তিনি। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ডিএসসিসির কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলের তত্ত্বাবধায়ক মো. আরিফ চৌধুরীকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে মূল কর্মস্থল অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (কেন্দ্রীয় পরিবহন পুল) পদে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা নিয়ম-শৃঙ্খলার বাইরে যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে, তাই সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরিফ চৌধুরীকে ১২তম গ্রেড থেকে নামিয়ে ১৫তম গ্রেডে পাঠানো হয়েছে। আরিফ ডিএসসিসির জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তৎকালীন প্রশাসককে চাপ দিয়ে কম্পিউটার অপারেটর থেকে এক লাফে কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলের পরিবহন তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। এরপর তিনি প্রাতিষ্ঠানিক নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

আদালতের রায়ে ডিএসসিসির মেয়র পদ ফিরে পান বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। কিন্তু তখন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়ার হস্তক্ষেপে মেয়র পদে বসতে ব্যর্থ হন ইশরাক হোসেন। এ নিয়ে দীর্ঘ ৪০ দিনের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চলে। একসময় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও সে সময় কোটি টাকা জ্বালানি খরচ বাবদ উত্তোলন করা হয়। এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে প্রাথমিক তদন্তে তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক আরিফের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়। সেই তেল কেলেঙ্কারির দায়ে এবার তাকে পদ হারাতে হলো।

জানা গেছে, যোগ্যতা না থাকলেও জোর জবরদস্তি করে ৫ আগস্টের পর পদ বাগিয়ে নেন আরিফ। বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর যোগ্যদের পদায়নে জোর দেন। তারই ধারাবাহিকতায় আরিফকে চার ধাপ নামিয়ে নিজ দপ্তরে ফেরত পাঠিয়েছেন।

ঈদুল আজহায় বর্জ্য বিভাগে চাহিদা মাফিক জ্বালানি তেল সরবরাহ না করায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দুজন কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন। তবে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না করে সেই জ্বালানি আত্মসাতের অভিযোগও আরিফের বিরুদ্ধে ছিল।