ফুটবল মাঠে বল দখলে আধিপত্য বিস্তার করা এক জিনিস, আর গোল করে জয় ছিনিয়ে আনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেন যেন এই সহজ সত্যটিকেই আবার মনে করিয়ে দিল। যদিও পুরো ম্যাচে তাদের পায়ে বল ছিল ৭৪ শতাংশ সময়, ৭৬৪টি সফল পাস এবং প্রতিপক্ষের গোলমুখে আটটি শট নেওয়ার পরও কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। এই পরিসংখ্যান দেখে যে কেউ ভাববে, স্পেন সহজেই জিতবে। কিন্তু খেলার শেষ ফলাফল ভিন্ন কথা বলে। বরং কেপ ভার্দে, যারা বিশ্ব ফুটবলে তুলনামূলকভাবে নতুন, তারা স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে রাখতে পেরেছে, যা তাদের জন্য এক বিরাট কৃতিত্ব।
এই ড্র স্পেনের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তাদের অতিরিক্ত বল দখলের প্রবণতা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার কার্যকর কৌশলের অভাবই এই হারের মূল কারণ। স্পেনের খেলা ছিল মূলত ‘চোর-পুলিশ’ খেলার মতো, যেখানে বল শুধু নিজেদের মধ্যেই আবর্তিত হয়েছে, কিন্তু প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেদ করার মতো গতি, পরিবর্তন বা তীক্ষ্ণ পাসের অভাব ছিল প্রকট। তাদের খেলার ধরণ ছিল ভার্টিকাল আক্রমণের পরিবর্তে কেবল পাসের পর পাস খেলে বল ধরে রাখা। এই কৌশলের সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারজাবাল। ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিট তিনি একবারও বল স্পর্শ করতে পারেননি, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে কোনো স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের জন্য এক লজ্জাজনক রেকর্ড। এই ঘটনা কেবল একটি ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং পুরো স্পেনিশ আক্রমণভাগের অকার্যকারিতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।
স্পেনের ট্যাকটিক্যাল ভুলটি ছিল স্পষ্ট। কেপ ভার্দে শুরু থেকেই তাদের শক্তিশালী ডিফেন্স লাইনের মাধ্যমে স্পেনের আক্রমণ রুখতে চেয়েছিল। তাদের দুই ডিফেন্স লাইনের মাঝে কোনো ফাঁকা জায়গা ছিল না। কিন্তু সেই মজবুত ডিফেন্স ভাঙার জন্য যে দ্রুত, সরাসরি এবং আক্রমণাত্মক খেলার প্রয়োজন, স্পেন তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বরং পাসের পর পাস খেলে নিজেদের আয়ত্তে বল রেখেছে, কিন্তু প্রতিপক্ষের শেষ ডিফেন্স ভাঙার কোনো কার্যকর চেষ্টা দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে, স্ট্রাইকার ওইয়ারজাবালের বল স্পর্শ করতে না পারার রেকর্ডটিই স্পেনের এই কৌশলের ব্যর্থতার প্রমাণ বহন করে। মনে হচ্ছিল, তিনি যেন মাঠের মধ্যে থেকেও এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে চলে গিয়েছিলেন, খেলার অংশীদার হতে পারেননি। দলের কৌশলগত বিন্যাসই তাকে খেলার বাইরে ঠেলে দিয়েছিল, যার ফলে এত বলের দখল থাকা সত্ত্বেও তাকে কার্যকরভাবে বল সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 
























