বাংলাদেশের আয়কর আইনে এক নতুন সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে, যা কোম্পানিগুলোর ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে আরও কঠোরতা আনবে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো তাদের বার্ষিক মুনাফা থেকে ঋণের সুদকে ‘ব্যয়’ হিসেবে বাদ দিতে পারবে না, যদি সেই সুদ তিন বছরের মধ্যে পরিশোধ না করা হয়। এমন ক্ষেত্রে, অপরিশোধিত সুদকে কোম্পানির আয় হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তার উপর কর দিতে হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে এই সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
এই নতুন নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোম্পানিগুলো যেন ঋণের সুদের বিপরীতে ‘ব্যয়ের’ সুবিধা নিয়ে সরকারকে কর ফাঁকি দিতে না পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো কোম্পানি ‘এবিসি লিমিটেড’ তাদের ২০২৬-২৭ করবর্ষে ঋণের বিপরীতে ১০ লাখ টাকা সুদ ‘ব্যয়’ হিসেবে দেখায় এবং পরবর্তী তিন বছর (২০২৭-২৮, ২০২৮-২৯, ২০২৯-৩০) সেই সুদ ঋণদাতাকে পরিশোধ না করে, তবে ২০৩০-৩১ করবর্ষে সরকার এই ১০ লাখ টাকাকে কোম্পানির ‘ব্যবসায়িক আয়’ হিসেবে গণ্য করবে। ফলে, কোম্পানিকে তখন এই ১০ লাখ টাকার উপর বর্তমান করের হার অনুযায়ী নতুন করে আয়কর পরিশোধ করতে হবে।
তবে, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে একটি বিধান রাখা হয়েছে যে, যদি অপরিশোধিত সুদ তিন বছর পরও কোনো এক সময় পরিশোধ করা হয়, তবে সেই পরিশোধিত অর্থ সেই বছরের জন্য ‘অনুমোদনযোগ্য ব্যয়’ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, যদি কোম্পানি চতুর্থ বছরে গিয়ে ওই ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করে, তবে ওই বছরের মোট আয় থেকে এই অর্থ ব্যয় হিসেবে বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় কমানো যাবে। কিন্তু, আয়কর আইনের ধারা ৫২(১) অনুযায়ী, শুধুমাত্র পরিশোধিত সুদের টাকাই ব্যয় হিসেবে অনুমোদিত হওয়ার কথা। এই নতুন সংশোধনীটি অপরিশোধিত সুদকে ব্যয় হিসেবে অনুমোদনের সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা বর্তমান আয়কর আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























