প্রায় ৪০ বছর আগে, ১৯৮৯ সালে, বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর নির্যাতনের অজুহাতে ভারতে তাদের অনুপ্রবেশের একটি তাত্ত্বিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট কালিদাস বৈদ্য কলকাতার একটি বাংলা দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা ফাঁস করেছিলেন। তার মতে, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর ব্যাপক অত্যাচার চালালে তারা ভারতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হবে, যা ভারতের উপর শরণার্থীর বোঝা চাপাবে এবং ভারতকে বাংলাদেশে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে অন্তর্ঘাতমূলক কাজ এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোরও উদ্দেশ্য ছিল, যাতে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের আবেগ ব্যবহার করে দেশটির সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে।
কালিদাস বৈদ্যদের এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর বা ব্যাপক হারে হিন্দু নিধনের পরিকল্পনা বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হয়নি। এর মূল কারণ হলো, বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের তুলনায় অনেক বেশি শান্তিতে ও সুখে বসবাস করছে। এই বাস্তবতা মাথাপিছু আয় এবং জনসংখ্যা অনুপাতে চাকরির খতিয়ান বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট হয়।
কালিদাস বৈদ্যদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর, তারা এবং ভারতে তাদের সহযোগীরা নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। এই নতুন কৌশলের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে লক্ষ লক্ষ মানুষের অনুপ্রবেশের একটি বায়বীয় সংখ্যা তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের কিছু উগ্র সংগঠন, যার মধ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপিও রয়েছে, বাংলাদেশিদের তথাকথিত অনুপ্রবেশ নিয়ে পরস্পরবিরোধী ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে আসছে। ২০০১ সালের আদমশুমারির বরাত দিয়ে এক অনলাইন মাধ্যমে ৩০ লক্ষ অবৈধ বাংলাদেশির কথা বলা হয়েছিল, আবার ২০০৭ সালে সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এই সংখ্যা দুই কোটি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এই তথাকথিত অনুপ্রবেশের তত্ত্ব মূলত ভারতের অভ্যন্তরে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককেও প্রভাবিত করছে।
রিপোর্টারের নাম 




















