বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যেকোনো রাজনৈতিক সংগ্রামের অগ্রভাগে থাকেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে আন্দোলনের সঙ্গে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে, সেই আন্দোলন অমোঘ বিজয়ের পথে এগিয়ে যায়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রচারণামূলক গানগুলো সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নেবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বনানী ক্লাবে ‘ভাইরাল ধানের শীষ’ শীর্ষক একটি নির্বাচনি গানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের সময়েও অনেক শিল্পী সাহসের সঙ্গে প্রতিবাদের গান রচনা করেছেন। সেই সৃজনশীল সৃষ্টিগুলো শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সীমানা ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই গানগুলোর আবেদন এতটাই তীব্র ছিল যে, অনেককে নির্যাতনের শিকার হতে হলেও শেষ পর্যন্ত তা একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি গানের নির্মাতা ইথুন বাবু এবং শিল্পী মৌসুমীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রশংসা করে বলেন, ধানের শীষ প্রতীককে ঘিরে এ দেশের মানুষের যে আবেগ রয়েছে, তা এই গানের মাধ্যমে সার্থকভাবে ফুটে উঠেছে। এই গান যখন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে, তখন তা ভোটারদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলবে। সাহিত্য, সংস্কৃতি, গান ও কবিতা সমাজ পরিবর্তনে সবসময়ই অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
সংস্কৃতির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম থেকে শুরু করে সলিল চৌধুরী পর্যন্ত বহু গুণী শিল্পী ও সাহিত্যিক তাদের কর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন গণআন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছেন। এমনকি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও শিল্পী ও কবিদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিল্পের শক্তি কতটা গভীর, তা বোঝা যায় যখন খোদ ডিবি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মুখেও আন্দোলনের গান গুনগুন করতে শোনা যায়।
রিজভী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, নতুন এই গানটি আগামী নির্বাচনে মানুষের মন জয় করবে এবং ভোটের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবে। এটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক ইথুন বাবু, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিলরুবা, রিজিয়া পারভিন, অভিনেতা শিবা শানুসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
রিপোর্টারের নাম 
























