ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনী প্রচারে মির্জা আব্বাস: প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন, ‘চা পানের দাওয়াতও নাকি হুমকি!’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস নির্বাচনী প্রচারে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগের গুলবাগ এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি অভিযোগ করেন, তার ‘চা পানের দাওয়াত’কেও হুমকি হিসেবে দেখিয়ে তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কোথায় কী হয়ে যায়, সব দোষ মির্জা আব্বাসের।”

নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের কথায় তিনি ভীত নন এবং তাদের কোনো ফাঁদে পা দেবেন না। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি তোমাদের বয়সে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহরজুড়ে আমার বন্ধু-আত্মীয়স্বজন আছে। আমার যত ভক্ত আছে, তোমাদের আত্মীয়স্বজনও তত নেই।”

প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমার ভোট আমি চাইব, তুমিও ভোট চাও। এলাকার জন্য কী করেছ, আর কী করবে, সেটা বলো।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মালিবাগের গুলবাগ এলাকায় গণসংযোগের পর তিনি মৌচাক মোড় হয়ে মালিবাগ মোড় ও রাজারবাগ পুলিশ গেট পর্যন্ত প্রচার চালান। বিকেলে ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এক বিশাল নির্বাচনী মিছিলে নেতৃত্ব দেন তিনি।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, নির্বাচনের সময় কিছু “অতিথি পাখি”র দেখা মেলে, যাদের পরে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। নিজের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না আমাকে পাওয়া যায়নি।” আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এলাকার মানুষ তাকে সমর্থন দিয়েছে এবং পুলিশি হামলার মুখে তিনি বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান।

সাবেক এই মন্ত্রী দাবি করেন, তিনি অনেকবার সংসদ সদস্য থাকাকালে কেউ তার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে যাননি। তবে তিনি যা পারবেন না, তার মিথ্যা আশ্বাসও কখনো দেননি। তিনি বলেন, “আমি ফেরেশতা না, তবে কারও ক্ষতি করার জন্য মিথ্যা বলি না।”

কিছু “মাছের পোনা” (নতুন প্রার্থী) প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন তাদের ঠিকানা ও জনসেবার ইতিহাস নিয়ে। তিনি বলেন, তিনি জেলে থাকাকালেও এলাকার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে তার বাসায় গেছে এবং তার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। তিনি প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করেন, “আজ লম্বা লম্বা কথা বলছেন, কয়জনকে সাহায্য করেছেন? এলাকার কতজনের জানাজায় গেছেন, কয়জনের বিয়েতে গেছেন? আবার বলেন, আমার এলাকা।”

একজন প্রতিপক্ষের “চাঁদাবাজি না কমালে লাল কার্ড দেখানোর” হুমকির জবাবে মির্জা আব্বাস পাল্টা অভিযোগ করেন, “আরে, চাঁদাবাজি তো আপনারাই করছেন। চাঁদাবাজির তকমা দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “চাঁদাবাজদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না?” তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, যারা লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছেন, “১২ তারিখে জনগণই আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালের কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ: ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতি বিজড়িত এক স্থাপত্য

নির্বাচনী প্রচারে মির্জা আব্বাস: প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন, ‘চা পানের দাওয়াতও নাকি হুমকি!’

আপডেট সময় : ০৭:১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস নির্বাচনী প্রচারে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগের গুলবাগ এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি অভিযোগ করেন, তার ‘চা পানের দাওয়াত’কেও হুমকি হিসেবে দেখিয়ে তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কোথায় কী হয়ে যায়, সব দোষ মির্জা আব্বাসের।”

নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষের কথায় তিনি ভীত নন এবং তাদের কোনো ফাঁদে পা দেবেন না। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি তোমাদের বয়সে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহরজুড়ে আমার বন্ধু-আত্মীয়স্বজন আছে। আমার যত ভক্ত আছে, তোমাদের আত্মীয়স্বজনও তত নেই।”

প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমার ভোট আমি চাইব, তুমিও ভোট চাও। এলাকার জন্য কী করেছ, আর কী করবে, সেটা বলো।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মালিবাগের গুলবাগ এলাকায় গণসংযোগের পর তিনি মৌচাক মোড় হয়ে মালিবাগ মোড় ও রাজারবাগ পুলিশ গেট পর্যন্ত প্রচার চালান। বিকেলে ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এক বিশাল নির্বাচনী মিছিলে নেতৃত্ব দেন তিনি।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, নির্বাচনের সময় কিছু “অতিথি পাখি”র দেখা মেলে, যাদের পরে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। নিজের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না আমাকে পাওয়া যায়নি।” আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এলাকার মানুষ তাকে সমর্থন দিয়েছে এবং পুলিশি হামলার মুখে তিনি বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান।

সাবেক এই মন্ত্রী দাবি করেন, তিনি অনেকবার সংসদ সদস্য থাকাকালে কেউ তার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে যাননি। তবে তিনি যা পারবেন না, তার মিথ্যা আশ্বাসও কখনো দেননি। তিনি বলেন, “আমি ফেরেশতা না, তবে কারও ক্ষতি করার জন্য মিথ্যা বলি না।”

কিছু “মাছের পোনা” (নতুন প্রার্থী) প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন তাদের ঠিকানা ও জনসেবার ইতিহাস নিয়ে। তিনি বলেন, তিনি জেলে থাকাকালেও এলাকার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে তার বাসায় গেছে এবং তার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। তিনি প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করেন, “আজ লম্বা লম্বা কথা বলছেন, কয়জনকে সাহায্য করেছেন? এলাকার কতজনের জানাজায় গেছেন, কয়জনের বিয়েতে গেছেন? আবার বলেন, আমার এলাকা।”

একজন প্রতিপক্ষের “চাঁদাবাজি না কমালে লাল কার্ড দেখানোর” হুমকির জবাবে মির্জা আব্বাস পাল্টা অভিযোগ করেন, “আরে, চাঁদাবাজি তো আপনারাই করছেন। চাঁদাবাজির তকমা দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “চাঁদাবাজদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না?” তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, যারা লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছেন, “১২ তারিখে জনগণই আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে।”