ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাঁনখারপুল হত্যা মামলার রায়ে শহীদ পরিবারের অসন্তোষ, ট্রাইব্যুনালে স্মারকলিপি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শহীদ পরিবারগুলো। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আন্দোলনের চেতনার যথাযথ প্রতিফলনের দাবিতে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর মাহমুদুর রহমান এবং শহীদ রমিজ উদ্দিনের বাবা রকিবুল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন শহীদ পরিবারের সদস্য এই স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে তারা উল্লেখ করেন, গত ২৬ জানুয়ারি ঘোষিত রায়টি শহীদ পরিবারগুলোকে আশাহত ও সংক্ষুব্ধ করেছে। স্মারকলিপিতে মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২৪ জুলাইয়ের নারকীয় সহিংসতায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা জাতীয় বীর। তাদের আত্মত্যাগ দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে বেগবান করেছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের রায়ে কিছু মৌলিক ঘাটতি রয়ে গেছে বলে শহীদ পরিবারগুলো মনে করছে। প্রথমত, ঘটনার সুস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও রায়ে তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। দ্বিতীয়ত, মাঠপর্যায়ে সরাসরি অপরাধে জড়িত বা ‘প্রিন্সিপাল অফেন্ডার’দের লঘু দণ্ড দিয়ে কেবল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করায় আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপে এই রায় টিকে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

শহীদ পরিবারগুলোর দাবি, এই রায় জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর ফলে সারা দেশের ১৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করছেন। এটি ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি নেতিবাচক নজির হয়ে থাকতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ডের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন—সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার শাহ আলম মোহাম্মদ আক্তারুল ইসলাম। আদালত তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে, পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মো. ইমরুলকে ৬ বছর, শাহবাগ থানার পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে ৪ বছর এবং কনস্টেবল সুজন হোসেন, ইমাম হোসেন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, অডিও-ভিডিও ও দালিলিক প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তরা রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন। তবে শহীদ পরিবারগুলো শুরু থেকেই এই সাজার বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মকে আগ্রহী করে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

চাঁনখারপুল হত্যা মামলার রায়ে শহীদ পরিবারের অসন্তোষ, ট্রাইব্যুনালে স্মারকলিপি

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শহীদ পরিবারগুলো। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আন্দোলনের চেতনার যথাযথ প্রতিফলনের দাবিতে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর মাহমুদুর রহমান এবং শহীদ রমিজ উদ্দিনের বাবা রকিবুল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন শহীদ পরিবারের সদস্য এই স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে তারা উল্লেখ করেন, গত ২৬ জানুয়ারি ঘোষিত রায়টি শহীদ পরিবারগুলোকে আশাহত ও সংক্ষুব্ধ করেছে। স্মারকলিপিতে মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২৪ জুলাইয়ের নারকীয় সহিংসতায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা জাতীয় বীর। তাদের আত্মত্যাগ দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে বেগবান করেছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের রায়ে কিছু মৌলিক ঘাটতি রয়ে গেছে বলে শহীদ পরিবারগুলো মনে করছে। প্রথমত, ঘটনার সুস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও রায়ে তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। দ্বিতীয়ত, মাঠপর্যায়ে সরাসরি অপরাধে জড়িত বা ‘প্রিন্সিপাল অফেন্ডার’দের লঘু দণ্ড দিয়ে কেবল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করায় আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপে এই রায় টিকে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

শহীদ পরিবারগুলোর দাবি, এই রায় জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর ফলে সারা দেশের ১৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করছেন। এটি ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি নেতিবাচক নজির হয়ে থাকতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ডের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন—সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার শাহ আলম মোহাম্মদ আক্তারুল ইসলাম। আদালত তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে, পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মো. ইমরুলকে ৬ বছর, শাহবাগ থানার পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে ৪ বছর এবং কনস্টেবল সুজন হোসেন, ইমাম হোসেন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, অডিও-ভিডিও ও দালিলিক প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তরা রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন। তবে শহীদ পরিবারগুলো শুরু থেকেই এই সাজার বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে।