চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের চূড়ান্ত ধাপ শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি এখন রায়ের অপেক্ষায় (সিএভি) রয়েছে। যেকোনো দিন এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করতে পারেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি, তদন্ত কর্মকর্তার জব্দ করা বিভিন্ন আলামত ও নথিপত্রসহ আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন। শুনানিতে প্রসিকিউশন দাবি করে, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী এই মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের সরাসরি সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, এই বিচার প্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৪ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনের জেরা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্বটি শেষ হয়। এরপর গত ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মূল পর্ব। টানা তিন দিনের এই আইনি লড়াই শেষে মামলাটি এখন রায়ের পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
আলোচিত এই মামলায় মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ৬ জন কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন— এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত চারজন আইনজীবী নিযুক্ত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর ৩০ জুন আদালত অভিযোগ আমলে নেন এবং ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করা হয়। ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পরিণতির অপেক্ষায়। আবু সাঈদের এই আত্মত্যাগ জুলাই বিপ্লবের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত, যার বিচারিক রায় দেখার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো দেশ।
রিপোর্টারের নাম 

























